এবারের নির্বাচনে মোট ৮৫ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক তিনজনের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। তিনজনই উচ্চশিক্ষিত, সম্পদশালী এবং দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁদের স্বামীরা ছিলেন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য। দুজন দলীয় প্রার্থী, একজন স্বতন্ত্র।
১. মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা (৭২) – নরসিংদী-৫ (রায়পুরা)
- দল: জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)
- শিক্ষা: বিএ (ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কলেজ)
- পেশা: গৃহিণী ও রাজনৈতিক কর্মী
- সম্পদ: বছরে আয় সাড়ে ২৩ লাখ+, নগদ ২৭ লাখ+, ব্যাংকে সাড়ে ৫ লাখ+, সঞ্চয়পত্র ৫০ লাখ+, সেভিংস ডিপোজিট আড়াই কোটি+, ৩৫ ভরি স্বর্ণ, গুলশানে ২৩৭৭ বর্গফুট ফ্ল্যাট
- স্বামী: ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত)
- রাজনীতি: ২০০৭ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ, বর্তমানে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা
- বার্তা: “এলাকার নারী ও তরুণদের শিক্ষা-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। ভোটাররা আমাকে অভিভূত করেছে।”
২. রেহানা বেগম (৭০) – নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী)
- দল: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), প্রতীক তারা
- শিক্ষা: এমএসসি, এমএস
- পেশা: শিক্ষকতা (অবসরপ্রাপ্ত) + ব্যবসা
- সম্পদ: বছরে আয় প্রায় ২১ লাখ+, নগদ ১০ লাখ+, ব্যাংক-শেয়ার-সঞ্চয়পত্র ৯০ লাখ+, ২০ ভরি সোনা, চট্টগ্রামে ভবন
- স্বামী: গোলাম জিলানী চৌধুরী (সাবেক জেএসডি নেতা, সংসদ সদস্য প্রার্থী)
- বার্তা: “নারীরা এখন নারী জনপ্রতিনিধি চান। স্বামী বা পুরুষের নামে নয়, নিজের যোগ্যতায় ভোট চাই।”
৩. আখতার সুলতানা (৭৬) – ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া)
- দল: স্বতন্ত্র (ফুটবল প্রতীক)
- শিক্ষা: স্নাতকোত্তর
- পেশা: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (আখতার সুলতানা মহিলা কলেজ)
- সম্পদ: বছরে আয় সাড়ে ৫ লাখ+, নগদ ৫৪ লাখ+, শেয়ার-বন্ড ২০ লাখ+, ৫ ভরি সোনা, ১ একর কৃষিজমি
- স্বামী: প্রয়াত শামস উদ্দিন আহমেদ (দুবার সংসদ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি)
- রাজনীতি: সাবেক উপজেলা মহিলা দল সভাপতি। এবার বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী
নারী প্রার্থীদের সামগ্রিক চিত্র
- মোট নারী প্রার্থী: ৮৫ জন
- উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক-স্নাতকোত্তর): ৬৪ জন (৭৫%)
- কর্মজীবী: প্রায় ৬৭%
- ৭০ বছরের বেশি: শুধু এই তিনজন
তিনজনই বলছেন একই কথা: “ভোটাররা এবার প্রতীক দেখে নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন।”
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই তিন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী প্রার্থী দেখিয়ে দিচ্ছেন — বয়স শুধু সংখ্যা, রাজনীতিতে ইচ্ছাশক্তিই আসল।