
সদ্যপ্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশ এবং এই দেশের মানুষই ছিলেন তাঁর মায়ের পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তারেক রহমান এ কথা লেখেন। তাঁর মা, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পোস্টে তারেক রহমান লেখেন: “আমার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের মা। আজ দেশ গভীর শোকাহত এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়ে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় অনিঃশেষ ভূমিকা রেখেছেন। আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে; নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। ত্যাগ ও সংগ্রামে ভাস্বর হয়েও তিনি ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যাঁর অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সর্বোচ্চ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে। দেশের জন্য তিনি হারিয়েছেন স্বামী, হারিয়েছেন সন্তান। তাই এই দেশ, এই দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার, তাঁর সত্তা, তাঁর অস্তিত্ব। তিনি রেখে গেছেন জনসেবা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিক্রমায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আপনারা সবাই আমার মা’র জন্য দোয়া করবেন। তাঁর প্রতি দেশবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধায় আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।”
আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপি এবার সবচেয়ে বড় ও স্মার্ট প্রচার কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। গতকাল সোমবার রাতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। মূল সিদ্ধান্ত: ৭টি বিষয়ভিত্তিক রঙিন পোস্টার + একটি পূর্ণাঙ্গ বই আকারের ইশতেহার ৭টি বিষয়ভিত্তিক পোস্টারে যা থাকছে “ইশতেহার বই আকারে হবে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষ পড়বে না। তাই এই ৭টি পোস্টারে আমরা ইশতেহারের ‘হৃদয়’টা সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেব” — দলীয় একজন শীর্ষ নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ইশতেহারের মূল স্তম্ভ তিনটি …
গণসংযোগ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক (মোহন)। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোমবার রাত আটটার দিকে চিকিত্সকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সিসিইউতে কর্তব্যরত চিকিত্সক মাহমুদুল হক। হামিদুল হকের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। এই প্রবীণ রাজনীতিক আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ জানান, ১২ অক্টোবর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেন হামিদুল হক। এজন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। …
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার পর আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয় কমিশন। এর ফলে তাসনিম জারা এখন আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাসনিম জারা বলেন, “নির্বাচন কমিশনে আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ অত্যন্ত কঠিন ও অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকেই হতাশা ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন, তবু দোয়া করেছেন। এই লড়াইয়ে সবাইকে ধন্যবাদ।” …
সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি …
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের নেতা-কর্মীদের পেছনে তিনি রাডার লাগিয়ে দিয়েছেন। কেউ বিপথে গেলে তা তিনি জেনে যাবেন এবং কাউকেই ক্ষমা করা হবে না। আজ সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের রায়পুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় নেহা নদী খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি চাই, বিএনপি নেতারা যেন ঠিক রাস্তায় চলে। আমি কিন্তু তাদের পেছনে রাডার ফিট করে দিয়েছি। সেই রাডার সব জায়গায় ঘুরছে। কে কী করছে, আমি সব জেনে যাব। কাউকে ক্ষমা করব না। পরিষ্কার কথা, নেতৃত্ব যাবে, আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।” তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দিনাজপুর সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, খাল খননের কাজ চালিয়ে গেলে দেশে পানির সমস্যা থাকত না। বর্তমানে কৃষকরা বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে গম, ভুট্টা ও আলুর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। দেশে ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিএনপি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, সৎভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু নেতা ধর্মের নামে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, “ধর্মটাকে বিক্রি করে কিছু করা যায় না। ধর্ম মানুষের অন্তরের ব্যাপার। দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ধর্মকে ভালোবাসেন, কিন্তু ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেন না।” তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কমেছে। একটি পেট্রল পাম্প ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “কোনো মব তৈরি করতে দেওয়া হবে না। মবকে কঠিন হস্তে দমন করা হবে। গায়ের জোরে, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করবেন না।” নেহা নদীর ৫.৮ কিলোমিটার খননকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উল্লেখও এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় দেশেই জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭-২০১২ সালের জন্মগ্রহণকারীদের) নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই দুই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার ফলাফল স্পষ্ট হলে রয়টার্স লিখেছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসের নির্বাচনের ঠিক উল্টো। সেখানেও ২০২৪ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ফলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের পতন ঘটে। নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এককভাবে নির্বাচনে লড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এতে তারা পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। হিমালয়ের দেশ নেপালে অভ্যুত্থান ঘটে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এক বছর পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন হয়। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ৩৬ বছর বয়সী শাহ অভ্যুত্থানের পর আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলটি ২০২২ সালে গঠন করেন রবি লামিছানে, যিনি টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। প্রার্থী হিসেবে শাহ কাঠমান্ডুর এক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে হারান। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ অনুসারে, নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি জয় করে। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি, নেপালি কংগ্রেস ১৮টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসন পায়। বাকি ১১০ আসন ভোটের অনুপাতে বণ্টিত হবে, যেখানেও আরএসপি এগিয়ে। …
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ কিছু দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.