
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনায় জাকাত বিতরণ করা গেলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র জাকাতের মাধ্যমেই দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। তিনি জানান, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো শনাক্ত করে প্রতিবছর ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে জাকাত প্রদান করলে অনেক পরিবার পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন পড়বে না। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ইফতার-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও জানান, ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে জাকাত আদায় করেন, কেউ কেউ সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর জাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করেন। তবে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে জাকাত বিতরণ না হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হচ্ছে—তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিনি বলেন, ইসলামি বিধান জাকাতদাতাদের এমনভাবে উৎসাহিত করে যাতে একবার জাকাত গ্রহণকারী পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন না পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত জাকাত বিতরণ দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরী ও লক্ষ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার কিছুটা বিলম্বে আপনাদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। বৈশ্বিক অবস্থার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে শুক্রবার ও শনিবারের দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের শেষ ইফতার মাহফিল। তিনি আরও বলেন, এই মাহফিলের প্রধান অতিথিরা হলেন ইয়াতিম সন্তানেরা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এতিমের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে এই ইফতার মাহফিলের প্রতীকী গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। এটি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বিত্তশালী যদি পবিত্র কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুসরণ করে অসহায় এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা বুকে বেদনা লুকিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাবে। পবিত্র রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অপ্রিয় সত্য হলেও বলতে হয়, রমজান এলেই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজানকে লোভ-লালসার মাসে পরিণত করেন। যাঁরা অসাধু পথ অবলম্বন করছেন, তাঁদের প্রতি বিনীত আহ্বান—অনুগ্রহ করে মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে উঠবেন না। ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকসহ অনেকে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও উপস্থিত ছিলেন।
একজন ব্যক্তি যেন তাঁর সমগ্র …
রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফেনীর দাগনভূঞা ছাত্রলীগের একরাম হোসেন (২৫), আদনান পিপুল (২৫), সজিব রহিম পলক (২৫), সাকের আলম (২৪); চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম (৪৩); তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের আসিবুল হক অর্ণব (২৫); যাত্রাবাড়ী ৬৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোকাররম হোসেন (৪৮) এবং ওয়ারী ৩৯ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন রহমান (৪৮)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার মিছিলে অংশ নিয়েছেন। গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয় মোহাম্মদপুর, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও টিকাটুলি এলাকায়। ডিএমপির মিডিয়া উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সদস্যপদের প্রার্থী মো. সজীব হোসাইন ভোটের ফলাফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। শহীদুল্লাহ হলের এই শিক্ষার্থী মধুর ক্যানটিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে তার এলাকার পরিচিত মো. সম্রাট ইসলামকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে, সম্রাট ইসলাম ওই হলে একটিও ভোট পাননি, যা সজীবের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “তাহলে আমার ভোট কোথায় গেল?” সজীব হোসাইনের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে সজীব জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন এবং তিনটি পদে বিভিন্ন প্যানেলের তিনজন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। গত রাতে তিনি শুনেছেন যে জিএস পদে তার ভোট দেওয়া প্রার্থী শহীদুল্লাহ হলে কোনো ভোট পাননি। তিনি দাবি করেন, “ব্যালট বাতিল হলে তার কারণ উল্লেখ করা উচিত। আমি জানি কীভাবে ভোট দিতে হয়, তাই আমার ব্যালট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।” তিনি প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করেন, বলেন, “যদি ব্যালট বাতিল হয়, তা দেখাতে হবে। নইলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা আমার এই ঘটনায় প্রমাণিত হবে।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করলে, আমার ব্যালট দেখানো হোক। তাহলে আমি তা মেনে নিতে প্রস্তুত।” …
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তিন দলের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামীকাল ও পরশু শাহবাগ অথবা শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি তাতে অংশ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় নেতা ওসমান হাদি। তিনি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অবস্থা সংকটাপন্ন। পুলিশ সন্দেহভাজন একজনের ছবি প্রকাশ করে তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল করা। হামলাটি ‘খুবই সিম্বলিক’ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। …
ঢাকা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১–দলীয় ঐক্যের ভেতরে কৌশলগত মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেওয়া এই জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটগত সমঝোতার পরিবর্তে এককভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। অন্যদিকে জোটের কয়েকটি দল এখনো সমন্বিত নির্বাচনী কৌশলের পক্ষে এবং বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। স্থানীয় নির্বাচনকে শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে দলগুলো নির্বাচন কমিশন অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এরই মধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনভিত্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জামায়াতের অবস্থান: স্থানীয় নির্বাচন দলীয় শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র জামায়াতের নেতারা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রতিটি দলকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের হাজারো পদে একই ধরনের সমঝোতা কার্যকর হবে না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে দলীয়ভাবে সমঝোতায় কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি জানান। শরিক দলগুলোর বিকল্প পরিকল্পনা জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে গেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস নতুন সমঝোতার পথ খুঁজতে পারে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। …
বেইজিং: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলও অনুসরণ করছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনা বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, মৎস্যপণ্য, কাঁচা চামড়া এবং ওষুধশিল্পের পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান শিল্পকারখানার আধুনিকায়নে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে উইগ তৈরিতে ব্যবহৃত মানবচুল। এছাড়া তুলার সুতা ও পাটজাত পণ্যও উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। চীন বৈঠকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (China-Myanmar-Bangladesh Economic …
একীভূত হওয়া ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য আশ্বস্তকারী বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের ওপর কোনো ‘হেয়ারকাট’ (আমানতের অর্থ কমিয়ে পরিশোধ) করা হবে না। বরং প্রত্যেক আমানতকারী তাঁদের সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন, যদিও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে। বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। ৫ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করেছে। তিনি বলেন, এই একীভূতকরণের ফলে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের সব আমানত, দাবি ও গ্রাহকদের স্বার্থ নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ‘হেয়ারকাট’ নয়, সুদসহ পুরো টাকা সংসদে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে হেয়ারকাটের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। তিনি বলেন, সরকার নিশ্চিত করতে চায় যেন প্রতিটি আমানতকারী তাঁর জমাকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত পান। তবে এ জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ ব্যাংকগুলো বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকট ও লোকসানের মধ্যে রয়েছে। মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে আমানতের অর্থ ও সুদ পরিশোধের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফরেনসিক তদন্ত …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.