
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার ‘দুঃশাসনের’ বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেননি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির …
বাংলাদেশের মানুষ সাংঘর্ষিক রাজনীতি দেখতে চায় না, স্থিতিশীলতা দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কথায় কথায় আপনি রাস্তায় যাবেন। এখন অন্য দল যদি তার প্রতিবাদে আবার রাস্তায় যায়, তাহলে কী হবে, সংঘর্ষ হবে না? বৃহত্তর দল বাংলাদেশে যদি রাস্তায় নামে এগুলোর প্রতিবাদে, সংঙ্ঘর্ষ হবে। এ জন্য কি আমরা শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছি?’ আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রেস কনসালট্যান্সি আয়োজিত ‘প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও জামায়াতে ইসলামীর গণভোটসহ পাঁচ দাবিতে রাজপথের কর্মসূচিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতৃত্ব। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদকে পাশে রেখে আমীর খসরু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বাস করতে হবে যে যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে আবার নতুন ইস্যু সৃষ্টি করলে কিন্তু ঐকমত্যের শ্রদ্ধা দেখানো হচ্ছে না। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ঐকমত্য হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার গত ১৭ বছরের শাসনে আমাদের মধ্যে একটা স্বৈরাচারী মনোভাব চলে আসছে। আমরা মনে করি যে আমার দফা, আমার দাবি, আমার চিন্তা না থাকলে এটাকে গ্রহণ করা যাবে না।’ যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেগুলোয় ঐকমত্য হয়নি, তা জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ঐকমত্যের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সরকার সংবিধানের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হয়েছে। সেই সংবিধানে গণভোটের কিছু নেই। যদি গণভোট করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান অনুসারে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে এসে সংসদে পাস করার পরে সেই বিষয়গুলো গণভোটে যেতে পারে।’ …
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারে বর্তমান সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই; এটি মূলত ইন্টারপোলের সাফল্য। তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে জারি করা রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় জারি হয়েছিল। রোববার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান বলেন, বেনজীরের আটক বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পুশ-ইন ইস্যু সংসদে উত্থাপন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, সংসদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা তুচ্ছতাচ্ছিল্যের জায়গা না বানিয়ে দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কার্যকর মঞ্চে পরিণত করা উচিত। …
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বহিষ্কৃত মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৪০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ দুই বছর পর এই নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা দলীয় ঐক্য জোরদারের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁরা লিখিত আবেদন করলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েও তাঁরা দলকে এগিয়ে নিতে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা অনুতপ্ত হয়ে দলীয় ফোরামে আবেদন করেছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।” …
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের দুর্বলতার কারণেই ‘মবতন্ত্র’ (মবোক্রেসি) প্রশ্রয় পেয়েছে এবং এটিকে কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। আজ রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এই ঘটনার জন্য সরকারের দায় সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও কেন তা আমলে নেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এক-দুই ঘণ্টা পরে সাড়া দিয়েছে। …
লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদ–সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার বিকেল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এনসিপি সমর্থকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে একই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ অন্তত তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকও রয়েছেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কেও হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে আরেক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করেও ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরও এক দফা উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফর ঘিরে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে দাবি করে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ছাত্র ও তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারেন। লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদ–সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার বিকেল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এনসিপি সমর্থকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে একই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ অন্তত তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকও রয়েছেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কেও হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে আরেক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করেও ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরও এক দফা উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফর ঘিরে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে দাবি করে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ছাত্র ও তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারেন। লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত ২৬ এপ্রিল গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। এ ছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকিরও সুপারিশ করা হয়। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি—সব খাতকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা আলাদাভাবে ১০টি সুপারিশ দেন। তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্রুত ফলদায়ক গ্যাস কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিরোধী দলের সুপারিশে আরও বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নীতির জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.