
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে হৃদয়ের গভীর থেকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংযমের শিক্ষার মাধ্যমে হিংসা-প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত হয়ে সমাজে শান্তি, স্বস্তি এবং ন্যায়বিচার ফিরে আসুক—এটাই হোক এই পবিত্র মাসের প্রার্থনা। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে গত বুধবার দেওয়া একটি বাণীতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন, এবং আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এই পবিত্র মাস। বিএনপির নতুন সরকারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করা এই মহাসচিব তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, রমজানের মূল ইবাদত হলো সিয়াম বা রোজা পালন। এই পবিত্র মাসে একজন রোজাদার যদি মহান আল্লাহর কাছে করুণা প্রার্থনা করে, তাহলে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। ১১ মাসের অপেক্ষার পর আসা এই মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস, যাতে মানুষের পথনির্দেশ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ তাই এই মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র রমজান ইবাদতের একটি বিশেষ মৌসুম। কারণ এতে মানুষের পাপগুলো দূর করে আত্মিক ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার পথ তৈরি করে রোজা। এই মাসের লক্ষ্য হলো পাপ থেকে দূরে থাকা, ঈমান ও তাকওয়া অর্জন করা। রমজানে রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত বহুগুণ বর্ষিত হয়। পবিত্র মাহে রমজানে সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি তাঁর বাণীতে আরও বলেন, ‘সংযমের মাধ্যমে হিংসা-প্রতিহিংসা, অপরের অমঙ্গল চাওয়া, অশ্লীলতা ও পঙ্কিলতার চক্র থেকে মুক্ত হয়ে সমাজজীবনে শান্তি, স্বস্তি ও ন্যায়বিচার ফিরে আসুক—এটাই হোক পবিত্র রমজান মাসে আমাদের প্রধান প্রার্থনা।’
আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) জন্য দুই …
আজ সোমবার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী …
“দেশটা যেন তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করছে – ফিরে এসো নেতা, গড়ে তুলি নতুন বাংলাদেশ!” আজ বৃহস্পতিবার, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬০তম জন্মদিন। জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে। কিন্তু এবারও জন্মদিন উদযাপন একেবারে সাদামাটা। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশ: কেক কাটা যাবে না, ব্যানার-পোস্টার লাগানো যাবে না, আলোচনা সভা-সমাবেশ নিষেধ। বরং যা খরচ হতো, তা দিয়ে গরিব-দুঃস্থদের সাহায্য করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “বর্তমান রাজনৈতিক সংকটময় পরিবেশ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোনো উৎসবমুখর আয়োজন করা যাবে না। দোয়া, মিলাদ ও মানবসেবা দিয়েই দিনটি পালন করুন।” …
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক …
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’-এর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। দলটি এসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির নেতারা এ দাবি জানান। সীমান্তে বিএসএফের কথিত পুশ ইন, বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু) অভিযোগ করেন, ভারত সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এনআরসিকে কেন্দ্র করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিতাড়নের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে এবং সীমান্তে প্রতিদিন বহু মানুষ জড়ো করে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনোভাবেই পুশ ইন গ্রহণ করা উচিত নয় এবং ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে শেখ রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মো. নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভুলে যায়। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের মতামত ও ভাষা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উল্লেখও এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় দেশেই জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭-২০১২ সালের জন্মগ্রহণকারীদের) নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই দুই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার ফলাফল স্পষ্ট হলে রয়টার্স লিখেছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসের নির্বাচনের ঠিক উল্টো। সেখানেও ২০২৪ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ফলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের পতন ঘটে। নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এককভাবে নির্বাচনে লড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এতে তারা পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। হিমালয়ের দেশ নেপালে অভ্যুত্থান ঘটে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এক বছর পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন হয়। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ৩৬ বছর বয়সী শাহ অভ্যুত্থানের পর আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলটি ২০২২ সালে গঠন করেন রবি লামিছানে, যিনি টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। প্রার্থী হিসেবে শাহ কাঠমান্ডুর এক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে হারান। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ অনুসারে, নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি জয় করে। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি, নেপালি কংগ্রেস ১৮টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসন পায়। বাকি ১১০ আসন ভোটের অনুপাতে বণ্টিত হবে, যেখানেও আরএসপি এগিয়ে। …
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত ২৬ এপ্রিল গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। এ ছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকিরও সুপারিশ করা হয়। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি—সব খাতকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা আলাদাভাবে ১০টি সুপারিশ দেন। তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্রুত ফলদায়ক গ্যাস কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিরোধী দলের সুপারিশে আরও বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নীতির জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.