
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (বরগুনা-২) মো. নূরুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ছয়জন হুইপ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি চিফ হুইপ ও হুইপদের নিয়োগ করেন। নবনিযুক্ত ছয় হুইপ হলেন— হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ১২ মার্চ এই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির …
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ৫০ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন, যেখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মধ্যম সারির নেতা এবং তরুণ প্রজন্মের অনেককেই স্থান দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ৫০ সদস্যের এই নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় তিন প্রজন্মের নেতাদের সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়েছে। অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাই অধিক। কেউ কেউ বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনায় ভারী দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। আবার কিছু নাম এমনও রয়েছে, যা খুব একটা উৎসাহজনক নয়। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়েছেন। তাঁদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশিত ছিল। তবে স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানকে নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, খন্দকার মোশাররফকে রাষ্ট্রপতি এবং আবদুল মঈন খানকে সংসদের স্পিকার করার আলোচনা চলছে। সম্ভবত এ কারণেই তাঁদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। …
রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচার এবং সুষ্ঠু …
নির্বাচনে আর ব্যবহার করা যাবে …
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে এই প্রস্তাব পরিবর্তন করে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এই অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান তাঁর দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এই প্রস্তাবকে ‘নতুন’ ও ‘অভিনব’ বলে অভিহিত করে বলেন, এতে পররাষ্ট্রনীতির উপস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা পরিচালনায় এই পদায়ন বিবেচনার যোগ্য বলে সুপারিশ করেন তিনি। যদিও সাবেক পররাষ্ট্রসচিবসহ কূটনীতিকেরা জানান, বাংলাদেশে এমন পদায়নের নজির নেই। এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এটি অস্বাভাবিক। যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল ভূমিকা রাখে, আর ভারত বা পাকিস্তানে সংকটকালে সব দল মিলে কাজ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের আগ্রহ বিবেচনা করে কাজ হয়। বিরোধী দলের কাউকে নিয়োগ করলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম জানান, মাহমুদুল হাসান চিঠির বিষয়ে আমিরকে অবহিত করেছিলেন এবং মৌখিক সম্মতি পেয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর পদমর্যাদার অংশে সম্মতি ছিল না। পরে শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে বাদ দেন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে অবহিত করা হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক ও বিইআই প্রেসিডেন্ট এম হুমায়ূন কবীর বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা সরকারের দায়িত্ব। বিরোধী দল পররাষ্ট্রনীতিতে ভূমিকা রাখতে চাইলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু সরকারি কাঠামোতে এমন পদায়ন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এবং এর নজির নেই। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উল্লেখও এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় দেশেই জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭-২০১২ সালের জন্মগ্রহণকারীদের) নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই দুই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার ফলাফল স্পষ্ট হলে রয়টার্স লিখেছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসের নির্বাচনের ঠিক উল্টো। সেখানেও ২০২৪ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ফলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের পতন ঘটে। নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এককভাবে নির্বাচনে লড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এতে তারা পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। হিমালয়ের দেশ নেপালে অভ্যুত্থান ঘটে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এক বছর পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন হয়। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ৩৬ বছর বয়সী শাহ অভ্যুত্থানের পর আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলটি ২০২২ সালে গঠন করেন রবি লামিছানে, যিনি টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। প্রার্থী হিসেবে শাহ কাঠমান্ডুর এক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে হারান। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ অনুসারে, নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি জয় করে। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি, নেপালি কংগ্রেস ১৮টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসন পায়। বাকি ১১০ আসন ভোটের অনুপাতে বণ্টিত হবে, যেখানেও আরএসপি এগিয়ে। …
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ কিছু দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.