শনিবার ২০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’—সাংবাদিকদের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান   বিশ্বকাপে প্রিয় দলের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে? সম্ভাব্য সময় জানালেন মন্ত্রী   লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আটক তিন বিক্ষোভকারী   ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদকে নিয়ে চাঞ্চল্য   বেনজীর গ্রেপ্তার: সরকারের চেয়ে ইন্টারপোলকে কৃতিত্ব দিল জামায়াত   শিক্ষার মান নিয়ে সংসদে বিতর্ক, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা প্রতিমন্ত্রীর   সরকারি চাকরিতে নতুন সুযোগ, নিয়োগ পাবে ৫ লাখ মানুষ   এস আলমের গাড়ি বিতর্কে সংসদে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ও হত্যা বন্ধে জোর দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির  

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দল ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।  আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান।  তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যাঁরা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালে যাঁরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন—তাঁরা একই ধারার যোদ্ধা।  তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যখন নিজেদের কষ্ট, ব্যথা ও ত্যাগের কথা ব্যাকুলভাবে তুলে ধরছিলেন, তখন আমি ও নজরুল ইসলাম খান সাহেব একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইনশা আল্লাহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা একটি বিভাগ খোলা হবে।’  তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শত শত মানুষের এক বা দুই চোখ নষ্ট হয়েছে, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘এককথায় গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন।  তিনি ১৯ আগস্ট ২০২৪-এর নিজের বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—ছাত্র, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানকর্মী, গাড়িচালক, দিনমজুর এবং এমনকি ছয় বছরের শিশু রিয়াও—এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪-এর আন্দোলন কোনো দল বা গোষ্ঠীর ছিল না—এটি ছিল দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় সকল মানুষের যৌথ লড়াই।  তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর, আর ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার বছর। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।  আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অর্থ বা সুবিধা দিয়ে তাদের কষ্ট পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের লড়াইয়ের মূল উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার—বাস্তবায়ন করা।  আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও শোকগাঁথা আর শোকসমাবেশ চলতেই থাকবে।’ তিনি সকলকে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনায় জাকাত বিতরণ করা গেলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র জাকাতের মাধ্যমেই দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। তিনি জানান, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো শনাক্ত করে প্রতিবছর ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে জাকাত প্রদান করলে অনেক পরিবার পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন পড়বে না।  আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ইফতার-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও জানান, ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে জাকাত আদায় করেন, কেউ কেউ সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর জাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করেন। তবে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে জাকাত বিতরণ না হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হচ্ছে—তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।  তিনি বলেন, ইসলামি বিধান জাকাতদাতাদের এমনভাবে উৎসাহিত করে যাতে একবার জাকাত গ্রহণকারী পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন না পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত জাকাত বিতরণ দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরী ও লক্ষ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।  এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার কিছুটা বিলম্বে আপনাদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। বৈশ্বিক অবস্থার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে শুক্রবার ও শনিবারের দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের শেষ ইফতার মাহফিল।  …

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করছেন — এয় এ কথা আজ শনিবার বিকেল ৪টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।  মূল বার্তা এক লাইনে: “খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। তবে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একমাত্র তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে।”  আজকের আপডেট একনজরে  গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান  …

“জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কাউকে জোর করে বোরকা পরানো হবে না — এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি।” মঙ্গলবার রাতে মিরপুরে এক নাগরিক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই কথা বলে সরাসরি ভয়-ভীতির জবাব দিলেন।  “নারীদের যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশ গঠনে অংশ নিতে দেওয়া হবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে — এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”  জামায়াতের প্রধান প্রতিশ্রুতি (আমিরের ভাষায়)  “আমরা এমন একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুবিচারপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই — যেখানে যুবকরা বুক উঁচু করে দাঁড়াবে।”  নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান  …

জাতীয় রাজনীতি

‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’—সাংবাদিকদের প্রতি নির্ভীক হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের  জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।  শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারি এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।  “অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। বুক টান করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলবেন। সেই কালো যদি আমার কাছেও কিছু পান, আমাকেও ছাড়বেন না,”—সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন শফিকুর রহমান।  তিনি বলেন, একটি দেশের গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে কাজ করতে পারে, তাহলে সেখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা সহজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য পরিবেশনই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  শফিকুর রহমানের ভাষায়, “আমরা একসঙ্গে লড়াই করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”  সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নানা ধরনের ঝুঁকি ও হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, সমাজের চারপাশের বাস্তবতা সাংবাদিকরা সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন, কিন্তু সব সময় সব সত্য প্রকাশের সুযোগ পান না।  বিচারব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান বিচার পাবে।  “বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না—আমরা সেই বাংলাদেশ চাই,” বলেন তিনি।  …

আন্তর্জাতিক রাজনীতি

লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদ–সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে।  সোমবার বিকেল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এনসিপি সমর্থকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে একই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন।  বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ অন্তত তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকও রয়েছেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কেও হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে আরেক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন।  এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করেও ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে।  পরে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরও এক দফা উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।  ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফর ঘিরে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে দাবি করে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।  অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ছাত্র ও তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারেন।  লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। 

নির্বাচন ও ভোট

অর্থনীতি ও রাজনীতি

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  রোববার জাতীয় সংসদে ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত ২৬ এপ্রিল গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।  বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি।  এ ছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকিরও সুপারিশ করা হয়।  কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি—সব খাতকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।  অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা আলাদাভাবে ১০টি সুপারিশ দেন। তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্রুত ফলদায়ক গ্যাস কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।  বিরোধী দলের সুপারিশে আরও বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নীতির জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।  …

সর্বশেষ

No more posts to show

জাতীয় রাজনীতি

আন্তর্জাতিক রাজনীতি

নির্বাচন ও ভোট

অর্থনীতি ও রাজনীতি

সর্বশেষ