
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইইউ সময়মতো, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে সমর্থন করে — এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথের নতুন ধারণা প্রতিষ্ঠার সুযোগ। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাইকেল মিলার। ইইউর আস্থা: নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি দেখে মুগ্ধ গত সপ্তাহে ইসির মক ভোটিং পরিদর্শন করে মিলার বলেন: “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের গণভোটের অগ্রিম প্রস্তুতি দেখে মুগ্ধ। নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতায় আমাদের আস্থা আছে।” তিনি যোগ করেন, ইইউর এই বড় পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়ার প্রতি তাঁদের আস্থার প্রতিফলন। চ্যালেঞ্জের মুখে আশাবাদ “বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী।” চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন: “এবার প্রায় পুরো এক প্রজন্ম প্রথমবার ভোট দেবে। আগে অনেকে ভোট দেননি — হয়তো ভয়ে বা সুষ্ঠতার আশঙ্কায়। একই দিনে দুই ভোট — এটা বুঝতে হবে। ইসি ভোট গ্রহণের সময় বাড়াচ্ছে, এটা প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্ত।” “সব অংশীজনকে এই সুযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।” মিলারের এই বার্তা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে। ইইউর বড় দলের আগমন নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াবে কি না — দেখা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি …
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচন যদি কোনো কারণে পিছিয়ে যায়, তাও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন যেন না পিছায়—সে জন্য আগে গণভোট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান। কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ব্রিফিং হয়। বৈঠকে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলে ছিলেন দিনুষা পণ্ডিতরত্ন, ন্যান্সি কানিয়াগো, সার্থক রায় ও ম্যাডোনা লিঞ্চ। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ প্রমুখ। আবদুল্লাহ তাহের বলেন, “কোনো কারণে জাতীয় নির্বাচন সঠিক সময়ে না হলেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন যেন না পিছায়। গণভোট আগে হতে হবে, কারণ সনদ সংস্কারের দলিল এবং নির্বাচন ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য। দুটোর চরিত্র আলাদা।” তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনের দিন বা আগে গণভোটের সুপারিশ করেছে। একই দিনে হলে ভোটার ঢেউ লেগে যাবে বলে তিনি মনে করেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তারিখ ঘোষণা হলে মাস শেষে গণভোট সম্ভব, যা নির্বাচনের মতো খরচ বা সময় লাগবে না। …
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন থেকে নিরপেক্ষ ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। সে সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ‘দল-ঘনিষ্ঠদের’ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছে দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ কথা জানায়। সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সাক্ষাতে ওই দুটি বিষয় ছাড়াও বিচার বিভাগ, সচিবালয় এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রদবদলসহ কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির নেতারা প্রধান উপদেষ্টাকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বিএনপির নেতাদের বলেছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল সরাসরি তাঁর তত্ত্বাবধানে হবে। জেলা প্রশাসক পদে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। দায়িত্বে নিরপেক্ষ থেকে যেখানে যিনি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, সেই ব্যক্তিকেই তাঁরা বেছে নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিচার বিভাগ ও সচিবালয়কে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দোসরমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে বিগত সরকারের সময়ে বঞ্চিত সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া ১১৯ কর্মকর্তার মধ্য থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। …
গত সাড়ে আট মাস ধরে সংস্কারের আলোচনার টেবিলে বসে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (এনসিসি) চারপাশে ঘুরপাক খাওয়া রাজনীতি এখন আবার রাজপথে নেমেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ শীর্ষ দলগুলোর মাঠের কর্মসূচি—একদিকে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্নমত, অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দ্রুত আগমন—এই দ্বৈততায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার জ্বলে উঠেছে। এই তৎপরতা কি নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ, নাকি মাঠ উত্তপ্ত করে চাপ সৃষ্টির কৌশল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুটোই মিশিয়ে চলছে, যা সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জুলাই সনদ: ঐক্য থেকে বিভেদের পথে গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত এনসিসি সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজের অধ্যয়নে সাড়ে আট মাসে ৩০টি দলের সঙ্গে টানা বৈঠক করে ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ প্রণয়ন করে। অধিকাংশ দল সই করে, কিন্তু বাস্তবায়নের পথ নিয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। ৩ নভেম্বর সরকার বলে, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করুক—কিন্তু তার বদলে দলগুলো রাজপথের দিকে ঝুঁকেছে। বিএনপি চায় গণভোট ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনই হোক, যাতে খরচ কমে এবং মূল নির্বাচনের গুরুত্ব অটুট থাকে। দলটি ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছে। গত ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে’ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ সব বিভাগ-জেলায় সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটায়। এসব কর্মসূচিতে ধানের শীষের নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শিত হয়, যা ঐতিহাসিক স্মরণের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের সূচনা। বিএনপির সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠন চলছে। ঢাকা সমাবেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, …
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য …
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উল্লেখও এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় দেশেই জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭-২০১২ সালের জন্মগ্রহণকারীদের) নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই দুই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার ফলাফল স্পষ্ট হলে রয়টার্স লিখেছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসের নির্বাচনের ঠিক উল্টো। সেখানেও ২০২৪ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ফলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের পতন ঘটে। নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এককভাবে নির্বাচনে লড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এতে তারা পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। হিমালয়ের দেশ নেপালে অভ্যুত্থান ঘটে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এক বছর পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন হয়। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ৩৬ বছর বয়সী শাহ অভ্যুত্থানের পর আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলটি ২০২২ সালে গঠন করেন রবি লামিছানে, যিনি টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। প্রার্থী হিসেবে শাহ কাঠমান্ডুর এক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে হারান। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ অনুসারে, নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি জয় করে। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি, নেপালি কংগ্রেস ১৮টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসন পায়। বাকি ১১০ আসন ভোটের অনুপাতে বণ্টিত হবে, যেখানেও আরএসপি এগিয়ে। …
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ কিছু দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.