
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার সকালে স্পষ্টভাবে বলেছেন: “একটা গোষ্ঠী, একটা মহল বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়।” খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন: “দেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্ম মেনে চলে। কিন্তু বিএনপি কখনো ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র বা সমাজের বিভাজনে বিশ্বাস করে না।” তিনি ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান, এই অপচেষ্টাকে পরাজিত করে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে তাদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। ছাত্রদলের প্রতি কঠোর বার্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বিকেলের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিজয়ের মাসে বিএনপির এই অনুষ্ঠানের মূল বার্তা স্পষ্ট: ধর্মের নামে বিভাজনের যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। ছাত্রদলকে শক্তিশালী করে ক্যাম্পাস ও সাইবার জগতে বিএনপিকে অপ্রতিরোধ্য করতে হবে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সারা দেশে মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮,৭৪৬টিকে ‘লাল’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে পুলিশ। ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি — ২,৬৭৫টি (প্রায় ২৬%)। সিলেটে সবচেয়ে কম — মাত্র ৪৫৭টি। …
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে …
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে …
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম …
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। রাজধানীর বিজয়নগরে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। এছাড়া একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই সারা দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১–দলীয় ঐক্য। সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। এর আগে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে দেশে আবারও ‘ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ১১ দলের নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, বিজয়নগরের সমাবেশ থেকে গুম, খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতা, নৃশংসতার সংস্কৃতি এবং কথিত ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। ৪ জুলাইয়ের জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতেও গুম-খুনের বিচারের দাবির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে জোটটি। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জোটের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজধানীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর আভাস মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদ–সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার বিকেল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এনসিপি সমর্থকদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে একই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ অন্তত তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেকও রয়েছেন। তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার দৃশ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কেও হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে আরেক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করেও ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে এহতেশামুল হকের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ঘটনার ধারাবাহিকতায় এনসিপির এক সমর্থকের সঙ্গে শাহ শামীমের আরও এক দফা উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, হাসনাত আবদুল্লাহর সফর ঘিরে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করেছে। সংগঠনটি এ ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত” উল্লেখ করে দাবি করে, আওয়ামী লীগ এখনো ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর সফরকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কিছু ছাত্র ও তরুণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকতে পারেন। লন্ডনের এ ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত ২৬ এপ্রিল গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। এ ছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকিরও সুপারিশ করা হয়। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি—সব খাতকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা আলাদাভাবে ১০টি সুপারিশ দেন। তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্রুত ফলদায়ক গ্যাস কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিরোধী দলের সুপারিশে আরও বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নীতির জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.