
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।’ তিনি নতুন প্রজন্মসহ দেশের …
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি, নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানো পল্টন মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলের বিশাল সমাবেশে জড়ো হয়েছেন লাখো নেতাকর্মী। দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে খণ্ডখণ্ড মিছিল নিয়ে তারা সমবেত হতে শুরু করেন, ফলে কাকরাইল থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে পল্টন পর্যন্ত সড়কে যানচলাচল স্থবির। কোনো যানবাহন পল্টন মোড়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, যাতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং যাত্রী-পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সমাবেশ মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে পল্টন মোড় থেকে উত্তরমুখী সড়কের মাঝখানে, যাতে গুলিস্তান-গাজীপুরগামী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন উভয় পাশ দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। স্লোগানমুখর মিছিলে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কর, গণভোটের তারিখ দাও’, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই’—এমন ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন হয়। পাঁচ দফা দাবি: সংস্কার ও নির্বাচনের চাপ যুগপৎ কর্মসূচি চালিয়ে আসা সমমনা এই ৮টি রাজনৈতিক দলের যৌথ প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অংশগ্রহণকারী দলসমূহ …
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিতে “গোলামির চরিত্র” প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করা যেতে পারে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি সরকারকে দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং দ্রুত আয়োজন করা প্রয়োজন। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু এটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন, তাই তাঁর বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখা যায়। তবে ইসলামী আন্দোলন এ বিষয়ে নীরব নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের পর দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হলেও এখন সংগঠন গোছানোর কাজ চলছে। …
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও …
পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে …
সরকারি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ শুরু, ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসেবার মান উন্নয়ন করা হবে। তিনি জানান, বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার মোট ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শূন্য পদে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় তিনি বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ও সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন। সরকারের এই বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগকে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের উল্লেখও এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশের অভ্যুত্থানের সাদৃশ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উভয় দেশেই জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭-২০১২ সালের জন্মগ্রহণকারীদের) নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই দুই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেপালে নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার ফলাফল স্পষ্ট হলে রয়টার্স লিখেছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন দলের অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের গত মাসের নির্বাচনের ঠিক উল্টো। সেখানেও ২০২৪ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানের ফলে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসকের পতন ঘটে। নেপালে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এককভাবে নির্বাচনে লড়ে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। এতে তারা পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে। হিমালয়ের দেশ নেপালে অভ্যুত্থান ঘটে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের এক বছর পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন হয়। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ, যিনি র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। ৩৬ বছর বয়সী শাহ অভ্যুত্থানের পর আরএসপিতে যোগ দেন। এই দলটি ২০২২ সালে গঠন করেন রবি লামিছানে, যিনি টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে এসে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। প্রার্থী হিসেবে শাহ কাঠমান্ডুর এক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে হারান। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ অনুসারে, নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে আরএসপি ১২৫টি জয় করে। ক্ষমতাচ্যুত কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন-ইউএমএল) ৮টি, নেপালি কংগ্রেস ১৮টি এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসন পায়। বাকি ১১০ আসন ভোটের অনুপাতে বণ্টিত হবে, যেখানেও আরএসপি এগিয়ে। …
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে’ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গত ২৬ এপ্রিল গঠিত এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। এ ছাড়া ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং তা কার্যকরভাবে তদারকিরও সুপারিশ করা হয়। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তি—সব খাতকে সমন্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা আলাদাভাবে ১০টি সুপারিশ দেন। তাঁদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, কয়লার ব্যবহার বাড়ানো এবং দ্রুত ফলদায়ক গ্যাস কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিরোধী দলের সুপারিশে আরও বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নীতির জন্য বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.