শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
‘স্টান্টবাজির দিন শেষ, শিক্ষার্থীরা তা প্রমাণ করেছে’—হাসনাত আবদুল্লাহ  সংবিধান সংশোধনে সরকার নিজের পথে, অনড় বিরোধী দল  ‘দোষ চাপিয়ে লাভ হবে না, সরকার পারছে না’—নাহিদ ইসলাম   টেলিটক নিয়ে গুঞ্জনের অবসান, বিক্রির পরিকল্পনা নেই   ডিসেম্বর-জানুয়ারির অপেক্ষা নয়, শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত চাইলেন চিফ প্রসিকিউটর  ‘সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে ভারত, সরকারের মুখে কুলুপ’—জামায়াত আমির   ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর, সুদসহ ফেরত মিলবে টাকা  ডিসেম্বর থেকেই ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে ইউপি নির্বাচন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী   পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড  ইউপি নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণা, তফসিল ও ভোটের সময় প্রকাশ 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী হল সংসদ নির্বাচনে প্রধান প্রতিযোগিতা ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে। ছাত্রশিবির ৯টি ছাত্র হলের মধ্যে ৭টিতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে, আর ছাত্রদল ধীরে ধীরে নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করছে। বামপন্থী সংগঠনগুলো কোনো হলে প্যানেল গঠন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃশ্যটি ক্রমশ এই দুটি সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।  জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মামলা ও হামলার মুখে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। ছাত্রদলের কমিটি ২০২৩ সালের আগস্টে গঠিত হয়, যাতে ৫ জন সদস্য রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশের আয়োজন শুরু করেছে, তবে হলগুলোতে তাদের কোনো কমিটি নেই।  অপরদিকে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ২০১৪ থেকে গত বছর পর্যন্ত ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে খোলামেলা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। পরিস্থিতি বদলের পর তারা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়েছে, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ৯টি ছাত্র হলে তাদের কমিটি রয়েছে।  ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে জানান, তারা অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলে প্যানেল দেয়নি। বাকি হলগুলোতে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।  নির্বাচন ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদের জন্য প্রতিযোগিতা চলবে। চাকসুতে ইতিমধ্যে ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে, আর হল সংসদে শুধু ছাত্রশিবির প্যানেল দিয়েছে। ১৪টি হলে (ছাত্রীদের ৫টি) ৪৮১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে—ছাত্র হলে ৩৫৬ জন ও ছাত্রী হলে ১২৫ জন। প্রতি হলে ভিপি ও জিএসসহ ১৪টি পদ রয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ছাড়াও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ), স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ।  শিক্ষার্থীরা মনে করেন, হলে প্যানেল গঠনের ক্ষমতা শুধু ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের আছে। বাকি সংগঠনগুলো সব হলে প্যানেল দিতে সক্ষম নয়, ফলে হল সংসদ নির্বাচনে প্রধান লড়াই এই দুই সংগঠনের মধ্যে হবে। তবে ভোটারদের নজর থাকবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপরও।  ছাত্রীদের প্রীতিলতা হলে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা প্যানেল ঘোষণা করেছে, আর নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পাহাড়ি ছাত্রীরা ‘হৃদ্যতার বন্ধন’ নামে প্যানেল দিয়েছে। বাকি তিন হলে এখনো কেউ প্যানেল ঘোষণা করেনি।  ছাত্রদল এখনো চিন্তা-ভাবনার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছাত্ররাজনীতির ‘চাবি’ হাতে রেখেছিল। সংগঠনটি দুটি পক্ষে বিভক্ত ছিল—একটি পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সমর্থক, আরেকটি পক্ষ সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী। এরা হলগুলো নিয়ন্ত্রণ করত, ফলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির খোলামেলা কার্যক্রম চালাতে পারেনি। ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন জানান, কার্যক্রম সীমিত থাকায় হলে কমিটি গঠন করা যায়নি। তিনি বলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হবে, যেখানে এখন অভ্যন্তরীণ নির্বাচন চলছে। সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, হল সংসদে নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে, তবে পদ বরাদ্দ নিয়ে এখনও ভাবা হচ্ছে।  বাম সংগঠনগুলো দুর্বল। বামপন্থী ছাত্রসংগঠন দুটি ভাগে বিভক্ত—একটিতে ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), আরেকটিতে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি। চাকসুতে ‘দ্রোহ পর্ষদ’ নামে ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্যানেল দিয়েছে, আর ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ নামে বাকি বাম সংগঠনগুলো প্যানেল ঘোষণা করেছে। তবে হলে প্যানেল গঠন করতে ব্যর্থতা ঘটেছে। তারা জানায়, ছাত্রলীগের প্রভাবে হলে কার্যক্রম সীমিত ছিল, এখনও বাধা রয়েছে। তবুও সুস্থ রাজনীতির চর্চা চালিয়ে গেছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) ২০২২ সালের কমিটিতে ৭ জন সদস্য রয়েছে, যেখানে ১৪টি পদ। সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষ্মী ‘দ্রোহ পর্ষদ’ থেকে ভিপি পদে লড়ছেন। তিনি বলেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে হলে প্যানেল দেওয়া যায়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এটি সম্ভব হবে।  পূর্বে বাম নেতারা ভিপি-জিএস ছিলেন। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারিতে শেষ চাকসু নির্বাচনে জিএস পদে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আজিম উদ্দীন আহমদ (৪,৯৬৩ ভোট) ও শাহ আমানত হল থেকে ভিপি জয়জীত কুমার বড়ুয়া নির্বাচিত হন। আলাওল হলের জিএস ছিলেন ইলিয়াস কবীর (ছাত্র ইউনিয়ন), আর শামসুন্নাহার হলে ভিপি ছিলেন রুবিনা মাহফুজ। তখন ১২টি সংগঠন জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নেয়, যেখানে ছাত্রশিবির পৃথক ছিল। আজিম উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন হলে ক্ষমতাসীন সংগঠনের প্রভাব ছিল, বামপন্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সুযোগ কম পেয়েছে। হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিলে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। 

প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিএনপির ১৪৮ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৬৩ জন রয়েছেন।  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৭৬ শতাংশ সদস্যই নতুন মুখ। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২২৭ জন প্রথমবার সংসদে প্রবেশ করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির ১৪৮ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৬৩ জন অন্তর্ভুক্ত।  জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ হয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট হয়নি। এছাড়া দুটি আসনে ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যেখানে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।  নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১১ আসনে বিজয়ী হয়েছে। দলটির জোটসঙ্গী গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিনজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা ২১৪টি। এর মধ্যে প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ১৫০ জন (জোটের হিসাবে)। অর্থাৎ বিএনপি জোট থেকে সংসদে যাওয়া সদস্যদের ৭০ শতাংশই নতুন।  …

বিপুল বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে সারা দেশ থেকে ছুটে আসছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে এমন উৎসাহময় দৃশ্য চোখে পড়েছে।  সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাতে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে সকলকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না; শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং তাঁদের সীমিত প্রতিনিধিরাই ভিতরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফটকের বাইরে একজন নিরাপত্তা সদস্য তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করছেন, আর অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন। কার্যালয়ের আশপাশের রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।  জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বেলা ১১টার দিকে কার্যালয়ে পৌঁছান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  পরে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে থামে। …

জাতীয় রাজনীতি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে আর ‘স্টান্টবাজির রাজনীতি’ চলবে না এবং ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীরাই তা প্রমাণ করেছে। তিনি দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা হারাচ্ছে।  মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পদযাত্রায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এনসিপি দেশব্যাপী মাসব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করছে।  শিক্ষা খাতে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ  শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার নকল রোধের কথা বললেও বাস্তবে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটু কিংবা বুকসমান পানি পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এছাড়া একটি প্রশ্নপত্রে দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল থাকায় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি নিয়ে সমালোচনা  দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।  সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন টিকবে না এবং জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও সোচ্চার হতে পারে বলে সতর্ক করেন।  বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন  …

আন্তর্জাতিক রাজনীতি

 বেইজিং: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলও অনুসরণ করছে।  বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বড় বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনা বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, মৎস্যপণ্য, কাঁচা চামড়া এবং ওষুধশিল্পের পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।  একই সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান শিল্পকারখানার আধুনিকায়নে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে উইগ তৈরিতে ব্যবহৃত মানবচুল। এছাড়া তুলার সুতা ও পাটজাত পণ্যও উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে।  বাণিজ্যের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।  চীন বৈঠকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর (China-Myanmar-Bangladesh Economic …

নির্বাচন ও ভোট

অর্থনীতি ও রাজনীতি

একীভূত হওয়া ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য আশ্বস্তকারী বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের ওপর কোনো ‘হেয়ারকাট’ (আমানতের অর্থ কমিয়ে পরিশোধ) করা হবে না। বরং প্রত্যেক আমানতকারী তাঁদের সুদসহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন, যদিও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।  বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর উত্থাপিত নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।  ৫ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক  অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করেছে।  তিনি বলেন, এই একীভূতকরণের ফলে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের সব আমানত, দাবি ও গ্রাহকদের স্বার্থ নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেজল্যুশন স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।  ‘হেয়ারকাট’ নয়, সুদসহ পুরো টাকা  সংসদে বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রে হেয়ারকাটের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।  তিনি বলেন, সরকার নিশ্চিত করতে চায় যেন প্রতিটি আমানতকারী তাঁর জমাকৃত অর্থ সুদসহ ফেরত পান। তবে এ জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ ব্যাংকগুলো বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকট ও লোকসানের মধ্যে রয়েছে।  মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে আমানতের অর্থ ও সুদ পরিশোধের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।  অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফরেনসিক তদন্ত  …

সর্বশেষ

জাতীয় রাজনীতি

আন্তর্জাতিক রাজনীতি

নির্বাচন ও ভোট

অর্থনীতি ও রাজনীতি

সর্বশেষ