
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন পদ শূন্য হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে, তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের কারণে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলকে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহার হবে—এটিই এখন দলের সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীরা শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের পোর্ট্রেট ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকার্ত। দলীয় সাত দিনের শোক কর্মসূচি ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত কারণে তারেক রহমানের চেয়ারম্যান পদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আটকে আছে। তবে সব সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা তাঁকেই কেন্দ্র করে নেওয়া হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নিতে শিগগিরই কমিশনে যাওয়া হবে। শোকের মধ্যেও নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গভীর শোকে মন উৎসাহ পাচ্ছে না, তবু যতটুকু সম্ভব করতে হচ্ছে। প্রয়াত খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে না থাকলেও নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে থাকবেন—তাঁর শোককে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। জানাজায় অগণিত মানুষের উপস্থিতি ও বৈশ্বিক শ্রদ্ধাকে ভোটে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দল—ইতোমধ্যে ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনে শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় নেই। তারেক রহমান শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দেশব্যাপী সফর করতে পারেন। সবকিছু নির্ভর করছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া আজ সোমবার সকাল ১১টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দলে ফিরে এসেছেন। গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন রেজা কিবরিয়া। গত মাসের শুরুতে তাঁর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার খবর সামনে আসে। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিলেন। রেজার কথা: ‘বিএনপিতে যোগ দিয়ে গর্বিত, জিয়া আমার আদর্শ’ যোগদানের পর রেজা কিবরিয়া বলেন: “বিএনপিতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। এই দল দুবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হাত থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে — প্রথমে জিয়াউর রহমান, পরে খালেদা জিয়া। এমন ঐতিহ্য অন্য কোনো দেশে নেই।” …
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডন প্রবাসের পর দেশে ফিরে তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে গুলশান কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মাত্র ১০ দিনের মাথায় স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারেক রহমান দলের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হলেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা তাঁর সফলতা কামনা করে দোয়া করেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ স্থায়ী কমিটির প্রায় সব সদস্য। ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা তারেক রহমান ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। …
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে …
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, …
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনায় জাকাত বিতরণ করা গেলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র জাকাতের মাধ্যমেই দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব। তিনি জানান, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো শনাক্ত করে প্রতিবছর ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে জাকাত প্রদান করলে অনেক পরিবার পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন পড়বে না। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ইফতার-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও জানান, ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে সমাজে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে জাকাত আদায় করেন, কেউ কেউ সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে প্রতিবছর জাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করেন। তবে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে জাকাত বিতরণ না হওয়ায় দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হচ্ছে—তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিনি বলেন, ইসলামি বিধান জাকাতদাতাদের এমনভাবে উৎসাহিত করে যাতে একবার জাকাত গ্রহণকারী পরের বছর আর জাকাতের প্রয়োজন না পড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত জাকাত বিতরণ দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এই বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরী ও লক্ষ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার কিছুটা বিলম্বে আপনাদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। বৈশ্বিক অবস্থার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে শুক্রবার ও শনিবারের দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হয়তো এবারের শেষ ইফতার মাহফিল। তিনি আরও বলেন, এই মাহফিলের প্রধান অতিথিরা হলেন ইয়াতিম সন্তানেরা। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এতিমের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে এই ইফতার মাহফিলের প্রতীকী গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। এটি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বিত্তশালী যদি পবিত্র কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুসরণ করে অসহায় এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা বুকে বেদনা লুকিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাবে। পবিত্র রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অপ্রিয় সত্য হলেও বলতে হয়, রমজান এলেই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজানকে লোভ-লালসার মাসে পরিণত করেন। যাঁরা অসাধু পথ অবলম্বন করছেন, তাঁদের প্রতি বিনীত আহ্বান—অনুগ্রহ করে মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে উঠবেন না। ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকসহ অনেকে অংশ নেন। …
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ঐক্য (বিএনডিএ) তার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির গঠন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের অনুমোদন অর্জন করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রবাসে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক নতুন নেতৃত্বের সূচনা ঘটবে বলে সংগঠনটি প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। নতুন গঠিত কমিটিতে মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং শাহ জোবায়েরকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। এই আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করা। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে বসবাসরত জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী প্রবাসীদের সমন্বয়ে এই ১০১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আতিকুর রহমান রুমন নবনিযুক্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করেন, প্রবাসী দেশপ্রেমিকদের ভূমিকা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি প্রবাসে একটি একীভূত জাতীয়তাবাদী মঞ্চ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রবাসের তরুণ ও অভিজ্ঞ জাতীয়তাবাদী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি ভবিষ্যতে বিশ্ব মঞ্চে জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকে আরও সংহত করবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দলের অবস্থানকে দৃঢ়তর করবে। সংগঠনের উৎস থেকে জানা গেছে, তাদের নীতিবাক্য “জাতীয়তাবাদের চেতনায়, প্রবাসীদের ঐক্যে” এই প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন করে। সংগঠন বিশ্বাস করে, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ কেবল একটি রাজনৈতিক দর্শন নয়; এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক মূল্য ও ঐক্যের মৌলিক ভিত্তি। এই বিশ্বাসের আলোকে তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের একত্রিত করে একটি বিশ্বব্যাপী মঞ্চ গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত, যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। বিএনডিএ-এর প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয়তাবাদের চেতনায় প্রবাসীদের একত্রিত করা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ, প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সমর্থনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্মান উন্নত করা। সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ঐক্য বিশ্বব্যাপী বসবাসরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে আস্থাবান প্রবাসীদের একীভূত একটি সংগঠন, যা দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করছে।
মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ কিছু দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। …
আমাদের ভবিষ্যতের আপডেটগুলি মিস করবেন না! আজই সাবস্ক্রাইব করুন!
©2025. All Rights Reserved.