“জামায়াতের টিকিট কাটলে জান্নাতের টিকিট কাটা হয় — কোথায় আছে এই কথা? কুরআন-হাদিসে দেখিয়ে দিক তারা!” বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার দুপুরে কাকরাইলে এক আলোচনা সভায় এভাবেই সরাসরি আঘাত হানলেন জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ব্যবহারের ধর্মীয় যুক্তির ওপর।
“ইসলাম কখনো বলে না ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে। এই কথাগুলো আজ জনগণের সামনে আরও জোরে বলা দরকার।”
‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের কেয়ারটেকারদের দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা’ শীর্ষক সভায় ফখরুল বলেন: “জামায়াত রাজনৈতিকভাবে দাঁড়াতেই পারছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাদের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। IDL হয়ে এসেছিল, পরে বিএনপির সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু গত ১০-১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে হটাতে তাদের দৃশ্যমান কোনো লড়াই দেখিনি।”
তিনি আরও বলেন, “শুনেছি তারা ছাত্রলীগের ভেতরেও ঢুকেছিল — ছাত্রলীগ সেজে কাজ করেছে। আমরা কখনো এমন গোপন খেলা খেলিনি। আমরা সামনাসামনি লড়েছি।”
বিএনপির ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:
- ৬০ লাখ মিথ্যা মামলা
- ২০ হাজার নেতা-কর্মী খুন
- ১৭০০ জন গুম (এমপিসহ)
- প্রত্যেক নেতার গলায় ২০০-৪০০ মামলা
“খালেদা জিয়া ৬ বছর জেল খেটেছেন, তারেক রহমান এখনো দেশে ফিরতে পারেননি। ছেলেরা জীবন দিয়েছে। এই ত্যাগের কারণেই আজ আজ সুযোগ এসেছে। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে হবে।”
পিআর পদ্ধতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা
“বাংলাদেশের মানুষ বোঝে ওয়ান ম্যান, ওয়ান ভোট। একজন দাঁড়াবে, একটা মার্কা থাকবে — এটাই আমরা আদিকাল থেকে দেখে এসেছি। এখন হঠাৎ চারটা প্রশ্ন একটা গণভোটে? শেষ দিন পর্যন্তও মানুষ বুঝবে না কী ভোট দিচ্ছে!”
আওয়ামী লীগ আমলে মসজিদের খুতবা লিখে পাঠানো হতো উল্লেখ করে ফখরুল বলেন: “এর চেয়ে দুঃখের কথা কী, দেশেরই কিছু আলেম শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছেন। আর সরকার বদলাতেই জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেলেন — এটাই প্রমাণ করে নিয়োগ রাজনৈতিক ছিল।”
সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন মউশিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. জবাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান।
নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুলের এই বজ্রকণ্ঠ বার্তা স্পষ্ট: বিএনপি ধর্মের অপব্যবহার মানবে না, গোপন জোট মানবে না, আর জটিল পিআর দিয়েও ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে দেবে না।