নির্বাচনে আর ব্যবহার করা যাবে না ‘শাপলা’ প্রতীক। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘শাপলা’কে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বিধিমালার তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ফলে কোনো রাজনৈতিক দল এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
সম্প্রতি গণ–অভ্যুত্থানের তরুণদের গড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তাদের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ চায়। বিকল্প হিসেবে তারা ‘কলম’ ও ‘মোবাইল ফোন’ প্রতীকও তালিকাভুক্ত করেছে। একইভাবে নাগরিক ঐক্য দলও তাদের পুরনো প্রতীক ‘কেটলি’র পরিবর্তে ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়েছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক আবেদনও করেছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ‘শাপলা’ প্রতীক না রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তার ভাষায়, অতীতেও কেউ কেউ এই প্রতীক চেয়েছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে আইন আছে, যদিও জাতীয় ফুল বা ফলের বিষয়ে আলাদা আইন নেই। তবুও, প্রতীকের গুরুত্ব বিবেচনায় শাপলা বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে ৬৯টি নির্বাচনী প্রতীক রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি এই সংখ্যা ১০০-এর বেশি করার পরিকল্পনা করছে। প্রতীকের তালিকা সংশোধনের জন্য প্রস্তাব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এনসিপি ও নাগরিক ঐক্যের মতো নতুন ও ছোট দলগুলোর জন্য প্রতীক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীক শুধু দলের পরিচিতির মাধ্যম নয়, এটি আন্দোলন, দর্শন ও রাজনৈতিক অবস্থানেরও প্রতীকী প্রকাশ।