বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে যারা কাজ করছে, তারাই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বন্দুক রেখে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে অথবা প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় তারা নানা পন্থায় জাতীয় নির্বাচনকে সুকৌশলে বিঘ্নিত করছে।”
সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। সভায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৩ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার ও নির্যাতিত পেশাজীবীদের সম্মাননা দেয়া হয় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে স্মরণিকা ও তথ্যচিত্র উন্মোচন করা হয়।
সভায় তারেক রহমান প্রথমেই রাজধানীর উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর (সংখ্যানুপাতিক) নির্বাচনের দাবি তুলেছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি উল্লেখ করেন, “সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু হলে তা বিভাজন বাড়াবে, ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।” তাই, দেশের স্বার্থে এই পদ্ধতি গ্রহণ উপযুক্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কুক্ষিগত করতে নানা ধরনের চেষ্টা চলছে। শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রায় এক বছরেও তৈরি না হওয়া দুঃখজনক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শহীদদের নামে নামকরণ করবে।
সভায় বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতারা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান।