আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কয়েক শ বিদেশি পর্যবেক্ষক অংশ নিতে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের পর এবার সর্বোচ্চসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক আসছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে সবচেয়ে বড় দল আসছে—১৫০-২০০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন। এটি ২০০৮-এর পর ইইউর প্রথম ফুল-ফ্লেজড মিশন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইআরআই ও এনডিআই নেতৃত্বে ৫০-এর মতো পর্যবেক্ষক, কমনওয়েলথ থেকে ৩০-এর মতো।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ইতিমধ্যে ইইউসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশকে চিঠি পাঠিয়েছেন। তফসিল ঘোষণার দিনই তিনি ইউরোপীয় কমিশনের উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাসকে চিঠি লিখে পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ জানান। চিঠিতে সিইসি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, নির্বাচন কমিশনই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাবে। অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টিকারী কাউকে আনতে চায় না সরকার।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এটি ২০২৬-এর বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অনুশীলন হবে। ব্রাসেলসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মাসুদ আলম জানান, ইইউর প্রাক-নির্বাচনী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবার পূর্ণাঙ্গ মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন—যা ছিল ঐতিহাসিক। পরের তিন নির্বাচনে সংখ্যা ছিল সীমিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। এবারের বড় উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এ নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বড় অংশগ্রহণ এ প্রক্রিয়ায় আস্থা যোগ করবে।