নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে দলটি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এই মন্তব্য তিনি বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নেই, তাই তারা দলীয় প্রতীকে যেকোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিষিদ্ধ দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, তা সময়ের ওপর নির্ভর করবে।
নির্বাচন কমিশন জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ায় পরিবর্তনের সময় এই বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এই খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি অধ্যাদেশ হিসেবে আইনে রূপান্তরিত হবে। খসড়ায় বলা হয়েছে, যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে ‘অবৈধ’ বা ‘বাতিল’ ঘোষণা না করা হয়, তবে সরকার কর্তৃক কার্যক্রম স্থগিত থাকলে, দলটির নিবন্ধন এবং সংরক্ষিত প্রতীকও স্থগিত থাকবে।
ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান, খসড়া আরপিওতে পলাতক ঘোষিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ, যেকোনো আদালতে পলাতক ঘোষিত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
গত ১২ মে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দলের নেতা-কর্মীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এই বিজ্ঞপ্তির পর নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন স্থগিত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও সমমনা সংগঠনগুলোর যেকোনো প্রকাশনা, গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, সভা-সমাবেশ এবং সম্মেলন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।