মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিএনপি নেতাদের হাতে ছয় সিটির প্রশাসনের দায়িত্ব  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতি, সারজিস হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপি কমিটি  আওয়ামী লীগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনের পথেই: মির্জা ফখরুল  মনোনয়নবঞ্চিত কাইয়ুম চৌধুরীর নতুন দায়িত্ব সিলেট সিটির প্রশাসক  তেজগাঁও অফিসে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় তারেক রহমানের  মার্চের মাঝামাঝি সংসদের প্রথম অধিবেশন, ইঙ্গিত সালাহউদ্দিনের  আত্মসংযমেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া সম্ভব: মির্জা ফখরুল  পুরোনো মুখের সঙ্গে নতুন চমক, বড় মন্ত্রিসভা ঘোষণা  ৩০ বছর পর মন্ত্রীত্বে ফেরা নিতাই রায় চৌধুরী, নতুন দায়িত্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়  তারেক রহমানের হাত ধরে পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ 

বিএনপি নেতাদের হাতে ছয় সিটির প্রশাসনের দায়িত্ব 

ফেব্রুয়ারি 24, 2026
বিএনপি নেতাদের হাতে ছয় সিটির প্রশাসনের দায়িত্ব 

বিএনপি ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে পূর্ববর্তী প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই পদগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্তরা সকলেই বিএনপির নেতা। 

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তার মধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে নতুন প্রশাসকদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করেছিল। পরে ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এখন আবার ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হয়েছেন আবদুস সালাম। বিএনপির প্রবীণ এই নেতা একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। 

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ছিলেন আবদুস সালাম। পরে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হলে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হন। আবদুস সালাম বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। 

২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হলেও এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি আবদুস সালাম। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএসসিসির মেয়র ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শাহজাহান মিয়াকে ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। 

গত বছরের অক্টোবরের শেষদিকে শাহজাহান মিয়াকে প্রশাসক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত নভেম্বরে এই পদে নিয়োগ পান মো. মাহমুদুল হাসান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিএসসিসির প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন আবদুস সালাম। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক হয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন তিনি। 

শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএনসিসির মেয়র ছিলেন আতিকুল ইসলাম। ২০১৯ সালে তিনি এই দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন তিনি। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে এ মাসের শুরুতে সুরাইয়া আখতার জাহানকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন শফিকুল ইসলাম খান। 

খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। 

২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর সভাপতি ছিলেন। 

সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী ছিলেন। তবে জিততে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তিনি। 

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। একই বছরের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন। এই দুই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন শওকত হোসেন সরকার। তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি। 

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার আগে টানা ১০ বছর শওকত হোসেন সরকার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। একই ইউনিয়নে তাঁর বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার, চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার এবং দাদা জবেদ আলী সরকারও চেয়ারম্যান ছিলেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ছিলেন শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন শওকত হোসেন সরকার। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। 

আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ৭৮ হাজার ৯৬৭ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করেন। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পদচ্যুত সেলিনা হায়াত আইভী গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়েছিল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন সাখাওয়াত হোসেন খান। 

সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। 

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ২০২২ সালের ২৯ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত সিলেটে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সমন্বয়কারী এবং সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। 

বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ছিলেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। 

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন পাননি। এই আসনে দলের মনোনয়ন পান যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। নির্বাচনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট জেলার সবকটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন