ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন, সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে।
বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। এই এক ঘণ্টা দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতৃত্ব ইইউ-কে জানিয়েছে যে, আগামী নির্বাচনের জন্য জরুরি প্রস্তুতি এবং সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। মিলারও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইইউ-এর সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাতের পটভূমি: নির্বাচন ও সংস্কারের আলোচনা
বিএনপির পোস্ট অনুসারে, এই সাক্ষাৎকারটি ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, দেশ অগ্রসর হয়েছে এমন একটি সময়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর অপরিহার্য, এবং ইইউ-এর মতো অংশীদারদের সহযোগিতা সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। মাইকেল মিলারও এই আলোচনায় ইইউ-এর সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।
এই সাক্ষাৎকারটি ইইউ-এর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গত জানুয়ারিতে মিলার বিএনপির সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচনী রোডম্যাপ এবং সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে বিএনপি জোর দিয়েছে যে, অগণতান্ত্রিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী নয়। অক্টোবরে তিনি জুলাই চার্টারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এটিকে “রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” বলে অভিহিত করেন। জুনে তিনি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতে “স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার”ের আশা প্রকাশ করেন। মে মাসে তিনি বলেন, ইইউ সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে মতামত দেওয়া তাদের ভূমিকা নয়।
ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এমন সময়ে এই সাক্ষাৎকারটি বিএনপির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। বিএনপি জোর দিচ্ছে যে, নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত না হলে দেশের অগ্রগতি ব্যাহত হবে, এবং ইইউ-এর মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন নির্বাচনী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অপরিহার্য। মিলারের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকারে ইইউ-এর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে যে, তারা সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
বিএনপির ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, এই সাক্ষাৎকারটি “আগামী নির্বাচনের জন্য ইইউ-এর সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রতি অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে”। এটি বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যখন সংস্কার এবং গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ চলছে।