বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেবে জাপান। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় এই অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই সংক্রান্ত এক চুক্তি সই হয়। এতে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন, চার কমিশনার, ইসি সচিব এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর মহাপরিচালক ইশিজুকি হিদে উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ২০ লাখ ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে, আর এবার জাপান ৪.৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিল। এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সহায়তার মাধ্যমে ইসির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, কারিগরি দক্ষতা ও কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী, তরুণ এবং সমাজের প্রতিনিধিত্ববঞ্চিত জনগোষ্ঠীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে ভোটার ও নাগরিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “জাপানের এই সহায়তা নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, “বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক পথচলায় রয়েছে। জাপান সবসময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অধিকারকে সম্মান জানায় এবং একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “জাপানের উদারতা ও দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব এই যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করছি।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউএনডিপির সহায়তায় নির্বাচন কমিশন ‘বাংলাদেশ’স অ্যাডভান্সমেন্ট ফর ক্রেডিবল, ইনক্লুসিভ অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্ট ইলেকশনস (ব্যালট)’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর।