রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হওয়ার কথা। তবে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে কি না, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে সংশয় দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ইতিমধ্যেই দু’বার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে ২৪ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। রাকসু ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে, আর হল সংসদ নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট হলের প্রশাসনিক কার্যালয় থেকে নেওয়া হবে।
বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরুর জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। কর্মকর্তা–কর্মচারীরা যদি কর্মবিরতি পালন না করেন, তাহলে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে।” তবে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, “মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে কি না, তা নির্ভর করছে রাকসু কোষাধ্যক্ষ, হল প্রাধ্যক্ষ ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ওপর। তারা যদি ধর্মঘট পালন করেন, তবে এটি সম্ভব হবে না।”
ছাত্রশিবিরের নেতা-মুহূর্তে মনে করেন, পোষ্য কোটার দাবিতে এই আন্দোলনের পেছনে নির্বাচনের বিলম্ব ও বানচালের চেষ্টা থাকতে পারে। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম জানান, তাদের আন্দোলনের সঙ্গে নির্বাচনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেনের হঠাৎ পদত্যাগ ও নতুন প্রধান কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
ছাত্রসংগঠনগুলো অভিযোগ করছেন, প্রশাসন নির্বাচনের পরিবেশ যথাযথভাবে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভোটার তালিকায় ছবি না থাকা, ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর না করা, নারীর সাইবার বুলিং রোধে মনিটরিং সেল না গঠন করার কারণে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা যায়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন মনে করেন, “শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আন্দোলন মনোনয়নপত্র বিতরণে প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনের কার্যক্রম এগোলে সংকটগুলো সমাধান হবে।”