সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জোর আলোচনা 

ফেব্রুয়ারি 16, 2026
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জোর আলোচনা 

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে আসছে। 

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত। 

তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র। 

বিএনপির একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় আছেন। 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে, এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে। 

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম সামনে আসছে, এবং বেশ কয়েকজন নেতা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর পাশাপাশি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। 

নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন। 

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’ 

মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’ 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তখন আরও বলেছিলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।’ 

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ রয়েছে। তবে তাঁর রয়টার্সের সাক্ষাৎকার থেকে স্পষ্ট যে, তিনি সেই সময় পর্যন্ত পদে থাকবেন না। 

বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে আগেও আলোচনা হয়েছে। 

২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 

৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুসারে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে থেকে তিনি বাংলাদেশের সমর্থন আদায়ে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। 

৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)। 

এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। তিনি নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, যাতে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক না সৃষ্টি হয়। 

সূত্র আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় থাকলেও দলের অভ্যন্তরে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমে দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। 

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল মন্ত্রীদের নাম জানা যাবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। 

খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমে দলের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন