বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

‘লাল চাঁদ হত্যাকে নির্বাচন বিঘ্নের অজুহাত বানানো হচ্ছে’—মির্জা ফখরুল

জুলাই 14, 2025
‘লাল চাঁদ হত্যাকে নির্বাচন বিঘ্নের অজুহাত বানানো হচ্ছে’—মির্জা ফখরুল

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল জানান, এই হত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বিএনপি একটি তদন্ত তথ্যানুসন্ধানী কমিটি গঠন করেছে। তার ভাষায়, “আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ মহলের প্ররোচনায় এমন ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি এমন এলাকায় ঘটেছে যেখানে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, অথচ কেউ বাধা দিল না—এটা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

প্রচার প্ররোচনার অভিযোগ:
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ৯ জুলাই মিটফোর্ডে লাল চাঁদ হত্যার ঘটনা জুমার নামাজের পর ‘প্রাইম টাইমে’ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আগে থেকেই প্রস্তুত করা ফটোকার্ড ও প্রোপাগান্ডা নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল মিডিয়া আইডি থেকে ছড়ানো হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত একটি অপতৎপরতার ইঙ্গিত দেয়।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তা প্রতিক্রিয়া:
সরকার অপরাজনীতি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক শিষ্টাচার না মানলে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্ত হবে, আর এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “অপরাধীর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—দোষী ব্যক্তিকে ছাড় নয়।” তিনি জানান, দল ইতোমধ্যে পাঁচজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু এর চেয়ে বড় কথা হলো, এই ঘটনাকে ঘিরে বিএনপি ও তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী ভাষা প্রোপাগান্ডার নিন্দা:
তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণেরও তীব্র নিন্দা জানান ফখরুল। তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টাকে ব্যর্থ করতে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিত অপপ্রচারে নেমেছে।”

একপাক্ষিক প্রতিবাদের অভিযোগ:
খুলনায় এক যুবদল নেতার হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সমান মাত্রায় প্রতিবাদ দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এই ধরনের ঘটনাগুলো আইনের শাসনের প্রতি হুমকি এবং গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ অনেকে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন