মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

৭ দলের যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা 

সেপ্টেম্বর 16, 2025
৭ দলের যৌথ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা 

জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি দল জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজনসহ একাধিক অভিন্ন দাবির সঙ্গে মাঠে নামছে। এর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দলগুলো আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করবে এবং পরে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রকাশ করেছে। এর আগের দিন রোববার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। 

তথ্যসূত্রের খবরে, গত রাতে জানা গেছে যে, এই চারটি দলের সঙ্গে আরও তিনটি দল—নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—যুগপৎ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে। খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী ও জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, তারা আজ মঙ্গলবার নিজ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দলগুলোর এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। জানা গেছে, জামায়াত ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

এর আগে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। তবে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভেদের মধ্যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ চারটি ইসলামি দল প্রথমবার একযোগে অভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলগুলোর এই যুগপৎ কর্মসূচিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনী রাজনীতিতে গড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতা বা বোঝাপড়ার আভাস হিসেবেও বিবেচনা করছেন। 

প্রাথমিকভাবে আটটি দল জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন ও চার-পাঁচটি অভিন্ন দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছিল। এর জন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। তবে গণমাধ্যমে এ বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পর আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি বিবৃতি দিয়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুঠোফোনে যুগপৎ কর্মসূচির বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

জামায়াতসহ চারটি দলের দাবি বেশিরভাগই এক ও অভিন্ন। তাদের কর্মসূচির তারিখও সম্মিলিত। প্রতিটি দল পাঁচ থেকে ছয় দফা দাবি তুললেও মূল বিষয়গুলো এক। এগুলো হলো: জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে (কিছু দল উচ্চকক্ষে) পিআর পদ্ধতি চালু করা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিটি দল ও প্রার্থীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের সহায়ক জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এসব দাবিতে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কৌশলগত কারণে নেতারা এটিকে যুগপৎ কর্মসূচি হিসেবে মুখে স্বীকার না করলেও কার্যত এটি তাই। 

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে জনগণের দাবি পূরণের জন্য দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এনসিপি, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদ যুগপৎ আন্দোলনে অংশ না নিলেও সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে তাদের অবস্থান কাছাকাছি। সংশ্লেষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, কৌশলগত কারণে একটি দল এখন কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে না। একটি দলের দুই মুখ্য নেতার মতামত বিপরীতমুখী—একজন বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা চান, অন্যজন এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগ্রহ হারিয়েছেন। আরেকটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা চায়, কিন্তু অন্যাংশের ভিন্নমতের কারণে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। 

গত রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা-সম্পর্কিত কোর কমিটির সভায় এই কর্মসূচির আলোচনা হয়। সেখানে এর ফলে দেশে অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে। এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের মতে, জুলাই সনদ ও অন্যান্য বিষয়ে সমঝোতা না হলে অবরোধের পরিস্থিতি গড়ে উঠতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, একটি দল এখনও আন্দোলনে নেই, তবে শেষ মুহূর্তে যোগ দিলে এক বড় রাজনৈতিক দল একা পড়তে পারে। 

সংবাদ সম্মেলনে চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ঘোষণা না হলে সমমনা দলের সঙ্গে আন্দোলনে নামা হবে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পাল্টা নয়, ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরতন্ত্র থেকে মুক্তির জন্য সংস্কার ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু সংস্কার ও বিচার উপেক্ষা করে নির্বাচনকে মুখ্য করা দেশকে বিপদে ফেলবে। তিনি জানান, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অংশীজনদের নিয়ে এ আন্দোলন চালানো হবে এবং সরকারকে চাপে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। 

দলনেতাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপির দিকে হেলে গেছে, বিশেষ করে লন্ডনে তারেক রহমানের বৈঠকের পর। তাঁদের অভিযোগ, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। একইসঙ্গে, ইসলামপন্থী ভোট একত্রিত করার উদ্যোগে চরমোনাইয়ের পীর ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যোগ দিয়েছে। এর যাত্রা আগামী বৃহস্পতিবার যুগপৎ কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন