ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার পর আজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয় কমিশন। এর ফলে তাসনিম জারা এখন আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাসনিম জারা বলেন, “নির্বাচন কমিশনে আমাদের আপিল মঞ্জুর হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ অত্যন্ত কঠিন ও অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন। রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকেই হতাশা ও কষ্ট প্রকাশ করেছেন, তবু দোয়া করেছেন। এই লড়াইয়ে সবাইকে ধন্যবাদ।”
তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পছন্দের ফুটবল মার্কা নিয়ে আবেদন করবেন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তাসনিম জারা।
প্রসঙ্গত, তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে বিতর্কের পর দল ছেড়ে দেন তিনি। এরপরই ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
৩ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই-বাচাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৮ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার হলেও বাকি ২ জন ওই আসনের ভোটার নন। এ কারণে নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল হয়। তবে আপিলের সুযোগ থাকায় তিনি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৬৪৫টি আপিল দায়ের হয়েছে। আপিল গ্রহণ শুরু হয় ৫ জানুয়ারি থেকে এবং ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। শেষ দিনে ১৭৬টি আপিল জমা পড়ে।
আপিল শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আজ (শনিবার) ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল রোববার ৭১-১৪০, সোমবার ১৪১-২১০ এবং মঙ্গলবার ২১১-২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি হবে। সব শুনানি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তাসনিম জারার প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।