গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও জন–আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বরং স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এখনো মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সংবিধানের চার মূলনীতির ওপর লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন সিপিবির নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম। অন্যান্য নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন মিহির ঘোষ, আনোয়ার হোসেন রেজা, রাগীব আহসান মুন্না, হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল, জাহিদ হোসেন খান, অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম ও খান আসাদুজ্জামান মাসুম।
নেতারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ছিল একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যার পর দেশে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগ পরবর্তীতে বারবার স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপস করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
তাঁরা অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার দ্রব্যমূল্যের লাগাম না টেনে বরং লুটেরা ধনিক শ্রেণিকে রক্ষা করতে সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এ কারণেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র–শ্রমিক–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়। তবে এক বছর পার হলেও অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
সভায় নেতারা আরও বলেন, আজকের চ্যালেঞ্জ হলো একটি শক্তিশালী বাম–গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলা। তাঁদের মতে, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নয়, মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”