বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বহু সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি আবার ‘মা’ বলে ডাকবেন। এই অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপির পরিবার’ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নির্যাতন, হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন। আজও অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই কষ্ট এতটাই গভীর যে, সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বিতর্ক সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের পথকে আবারও নষ্ট করতে চায়, তাদের সফল হতে দেওয়া যাবে না।
বিএনপি কখনো কৌশলের নামে আপস বা গুপ্ত ভূমিকা নেয়নি—এমন দৃঢ় অবস্থানের কারণে কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার দিয়ে দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে তিনি জোর দেন।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিতর্কিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিতে চায়।
গুম, হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১-এর শহীদ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ, গত ১৬ বছরের গুম-হত্যার শিকার ও ২০২৪-এর আন্দোলনে শহীদদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আগামী দিনে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে গুম ও নির্যাতনের শিকারদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শহীদ ও গুমের শিকারদের আত্মত্যাগ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় থাকে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে শহীদ পরিবারদের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।
সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে পরিবারগুলোর মধ্যে আশা ও বিচারের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।