বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং–এর ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’–এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৭.৬ শতাংশ মনে করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার ফলাফল তুলে ধরেন। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপের মূল ফলাফলসমূহ:
- চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর থেকে ৫ হাজার ১৪৭ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
- ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ৪৭.৬% উত্তরদাতা বেছে নিয়েছেন।
- জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে ২২.৫% এবং নাহিদ ইসলামকে মাত্র ২.৭% প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন।
- ২২.২% উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো মত প্রকাশ করেননি।
দলীয় সমর্থনের চিত্র:
- নিজ এলাকায় আগামীকাল নির্বাচন হলে কোন দল জিতবে—এ প্রশ্নে ৫২.৯% উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন।
- জামায়াত ও জোট পেতে পারে ৩১% ভোট।
- আগের রাউন্ডের তুলনায় বিএনপির সম্ভাব্য বিজয়ের হার ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে।
জরিপে দেখা গেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপির পক্ষে থাকা কিছু ভোটারও বিএনপির দিকে গেছেন। আওয়ামী লীগের আগের সমর্থকদের ৩২.৯% এখন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ৬০%
জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের গণভোট নিয়ে জরিপে প্রায় ৬০% উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২% বলেছেন, গণভোটের বিষয়ে তারা জানেন না।
পেপসের প্রথম রাউন্ড মার্চে এবং দ্বিতীয় রাউন্ড সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। তৃতীয় রাউন্ডে আগের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে মতামত নেওয়া হয়।
জরিপটি নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।