বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
নতুন জালেম হিসেবে গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব: তারেক রহমান  জামায়াত আমিরের পোস্ট নিয়ে বিতর্ক, হ্যাকের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির  সিলেটে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ৯ নেতাকে বহিষ্কার বিএনপির  তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বলে মনে করেন ৪৭ শতাংশ মানুষ  আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না: জামায়াতের আমির  জলাবদ্ধতা দূর করাই প্রথম অগ্রাধিকার হবে: উত্তরায় তারেক রহমান  জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির শফিকুর  মানুষের আস্থাই আসল শক্তি, ভাড়া করা লোক দিয়ে রাজনীতি নয়: তাসনিম জারা  ভোট পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক  কূটনীতিকদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে ইসি 

তুরস্ক ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট? প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে 

জুন 21, 2025
তুরস্ক ইসরায়েলের পরবর্তী টার্গেট? প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে 

ইরানে সাম্প্রতিক হামলার আগের দিন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে স্বাগত জানাতে গিয়ে অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই তুরস্ক এবং এর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ইঙ্গিত করে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য আঙ্কারায় কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়। 

তুরস্ক ২০১০ সালের ‘আরব বসন্ত’ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানে হামলার আগের দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব মিত্র দেশকে আগাম তথ্য দিয়েছিল, তুরস্কও তাদের মধ্যে ছিল। হামলার পর ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে, যেখানে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। 

তুরস্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টায় নেই এবং হামলাটি অপ্রয়োজনীয় ছিল। একইসঙ্গে তুর্কি জনগণ ও প্রশাসন উদ্বিগ্ন, কারণ এ ধরনের হামলা তাদের দেশেও ভবিষ্যতে হুমকি তৈরি করতে পারে। 

তুরস্ক ইতোমধ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা, কুর্দি গোষ্ঠী পিকেকে’র সঙ্গে আলোচনা, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত। 

ইতিহাসগতভাবে, তুরস্ক ছিল প্রথম মুসলিম দেশ যারা ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। তবে এরদোয়ান সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক অনেকটা খারাপের দিকে গিয়েছে, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে। 

সিরিয়াকে ঘিরে তুরস্ক ও ইসরায়েল মুখোমুখি অবস্থানে আসে। ইসরায়েল জানিয়ে দেয় দক্ষিণ সিরিয়ায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো স্থাপন তারা মেনে নেবে না। যদিও সাম্প্রতিক আলোচনার মাধ্যমে আংশিক সমঝোতা হয় এবং সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক তৎপরতা সীমিত করা হয়। 

তুরস্ক এখন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নিজেই সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, তুরস্ককে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে যাকে কেউ অবহেলা করতে না পারে। তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। 

তুরস্কের এমএইচপি প্রধান ও এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেবলেত বাহচেলি অভিযোগ করেছেন, ইরানে হামলা আসলে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার উদ্দেশ্য তুরস্ককে ঘিরে ফেলা এবং তাদের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করা। 

এরদোয়ান সম্প্রতি তার বক্তব্যে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতীক ব্যবহার করেন, যা নেতানিয়াহুর ‘অটোমান আর ফিরবে না’ মন্তব্যের পাল্টা ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন তুরস্কও তাদের কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদার করছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন