“জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কাউকে জোর করে বোরকা পরানো হবে না — এটা আমি স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি।” মঙ্গলবার রাতে মিরপুরে এক নাগরিক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই কথা বলে সরাসরি ভয়-ভীতির জবাব দিলেন।
“নারীদের যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশ গঠনে অংশ নিতে দেওয়া হবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে — এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
জামায়াতের প্রধান প্রতিশ্রুতি (আমিরের ভাষায়)
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
- দুর্নীতির জন্য লাল কার্ড, সন্ত্রাসের জন্য কালো কার্ড
- অবিচারের কোনো স্থান থাকবে না
- ভাঙা অর্থনীতি পুনর্গঠন
- যুবকদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান
“আমরা এমন একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুবিচারপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই — যেখানে যুবকরা বুক উঁচু করে দাঁড়াবে।”
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান
“আমরা একটা অর্থবহ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। কেউ জিতুক আর আমরাই জিতি — সুষ্ঠুভাবে হলে আমরা অভিনন্দন জানাব, আর আমরা জিতলে আপনারাও জানাবেন।”
তিনি সবাইকে আহ্বান জানান: “রাজনীতি নীতি দিয়ে করুন। কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, গায়ের জোর নয়, কালো টাকা নয়।”
আওয়ামী লীগকে কটাক্ষ
“যারা বলেছিল ‘২০৪১ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকব’, তারা বুঝতে পারেনি ২০২৪ই তাদের ২০৪১ হয়ে যাবে। যারা বলত ‘আমরা পালাই না’ — তারা এখন কোথায় গেলেন, জানি না। আর আমরা কখনো বলিনি ‘পালাব না’, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ — ফাঁসির রশি গলায় নিয়েও দেশ ছেড়ে পালাইনি।”
সমাবেশে জামায়াত আমির আরও বলেন: “নির্বাচন লাগবে, কিন্তু পুরোনো স্টাইলের নির্বাচন নয়। এমন নির্বাচন চাই, যেটা দেশকে কল্যাণ এনে দেবে।”
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, জামায়াতের এই ‘মডারেট ও সংস্কারমুখী’ ইমেজ ততই জোরালো হচ্ছে। শফিকুর রহমানের এই স্পষ্ট বার্তা অনেকের কাছেই নতুন আলো জ্বালিয়েছে।