আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উৎস নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে (বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭) সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ৬০ লাখ টাকা—সবই তাঁর নিজস্ব আয় (কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত) থেকে। প্রতি আসনে ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ রেখেছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসবে দলীয় তহবিল থেকে। ঢাকা-১৫ আসনে তিনি ৩৫ লাখ টাকা খরচের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে নিজের নগদ ও ব্যাংক জমা থেকে ১০ লাখ এবং দলীয় অনুদান থেকে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫) ৩০ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েছেন—যার বড় অংশ দলীয় তহবিল, আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ীদের দান থেকে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের (ঢাকা-১১) মূল ভরসা জনসাধারণ। প্রায় ৪৪ লাখ টাকা খরচের সুযোগ থাকলেও তিনি গণ-অনুদান বা ক্রাউড ফান্ডিং থেকে ৪৪ লাখ এবং নিজের আয় থেকে ১ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন (রংপুর-৪)ও প্রায় ৫০ লাখ টাকার মধ্যে ৪৯ লাখ ক্রাউড ফান্ডিং থেকে নেবেন।
এবার ব্যয়সীমা বেড়েছে। আরপিও অনুযায়ী প্রার্থী ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে অথবা সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা—যেটি বেশি হয়। ফলে আসনভেদে ২৫ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচের সুযোগ রয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১) ৫১ লাখ ১৬ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছেন—ব্যবসা, পরামর্শক ফি, কৃষি, সম্মানী ও ব্যাংক মুনাফা থেকে।
নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস প্রকাশ করেছে। তবে প্রার্থী ও দলের প্রকৃত ব্যয় তদারকি না করা এবং হিসাব খতিয়ে না দেখার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব—ব্যয় নীরিক্ষা ও অসংগতিতে নির্বাচন বাতিলের বিধান—আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচনে ‘টাকার খেলা’ অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।