শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, জানালেন মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় আটকে গেল এনসিপির গাড়িবহর  আগস্টেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে বুধবার এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ, থাকবেন নাহিদ ইসলাম  রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আগের বা পরের অভিযোগে মামলা করা যাবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?   বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলা অজ্ঞতার পরিচয়: মির্জা ফখরুল  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে কাল সিইসির বৈঠক, আলোচনায় কী থাকছে?  বঙ্গভবন ছাড়লেন তাঁরা, নীরব বিদায়ে নতুন জল্পনা   গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে সহযোগিতা নয়: নাহিদ ইসলাম 

“প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমছে, রাষ্ট্রপতির বেড়েছে কোথায়?” 

আগস্ট 18, 2025
"প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমছে, রাষ্ট্রপতির বেড়েছে কোথায়?" 

সংবিধান সংস্কারের সর্বশেষ প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনার চেষ্টা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে একজন প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান বা সংসদ নেতা হিসেবে থাকতে পারবেন না। 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকবে না। সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার বাছাই করবে। রাষ্ট্রপতি এই কমিটির প্রস্তাবিত সদস্যদের নিয়োগ দেবেন। 

মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল এবং আইন কমিশনে রাষ্ট্রপতির সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে। এ ছাড়া, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তবে বিএনপি ও কিছু দল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। 

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। এখন ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের’ পরিবর্তে ‘মন্ত্রিসভার অনুমোদন’ বাধ্যতামূলক হবে এবং বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা উপনেতার উপস্থিতি থাকতে হবে। 

সংসদে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে বাছাই করা হবে। এছাড়া, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে আসন বিতরণ এবং আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সংবিধান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ভারসাম্য আনা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ কমানো, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকেন্দ্রীকরণ করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান প্রতিরোধ করা। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পাবে, কিন্তু পূর্ণরূপে বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়িত হবে কি না তা ভবিষ্যতের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন