জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধি সংশোধন করে খসড়া অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন খসড়ায় প্রচার-প্রচারণায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে—বিশেষ করে প্রার্থীদের পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সিইসি, চার কমিশনার, সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
তিনি বলেন, “পোস্টার বাদ দেওয়ার বিষয়ে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি। পরিবেশ রক্ষার জন্য নির্বাচনী প্রচারে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।”
নতুন প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- পোস্টার নিষিদ্ধ করা
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কঠোর তদারকি ও সংজ্ঞায়ন
- এক প্ল্যাটফর্ম থেকে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণা
- নতুনভাবে দলীয় অঙ্গীকারনামা যুক্ত
- আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড
- প্রচারে মাইকের শব্দসীমা ৬০ ডেসিবল
- সার্কিট হাউস, রেস্ট হাউস ব্যবহারে বিধিনিষেধ
- প্রার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা
কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর যদি কেউ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বা সদস্য হন, তাহলে তাঁকে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
তিনি বলেন, “আচরণবিধির আওতায় গুরুতর অপরাধ করলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রেখে সংশ্লিষ্ট ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।” এ ছাড়া, অস্ত্রের সংজ্ঞায় দেশীয় অস্ত্রও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে:
সভায় সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়েও আলোচনা হয়। ইতোমধ্যে ৩০০ আসনের খসড়া সীমানা প্রকাশ করেছে ইসি, যার ওপর প্রাপ্ত ৬০৭টি দাবি-আপত্তির শুনানি শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, ১২ মে সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে সরকার।