ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন—তারা সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি না বুঝেই রাজনীতি করছে, অথচ এমন জটিল রাজনৈতিক বিষয় না বোঝা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা অনুচিত। তাঁর বক্তব্যে ছিল তীব্র সমালোচনা এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে ইসলামী আন্দোলনের সুস্পষ্ট আহ্বান।
সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা থেকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, পিআর ভিত্তিক নির্বাচন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজন করা হয়।
ফয়জুল করিম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক আবহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এখনো যদি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ গঠন করা না যায়, তবে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে কয়েকটি গোষ্ঠীর কাছে দেশ জিম্মি ছিল এবং সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো বারবার বদলানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে, অথচ একটি বড় দল (বিএনপি) এই পদ্ধতি এলে দেশ থেকে টাকা পাচার, দুর্নীতি, এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর মামলা চাপানোর সুযোগ হারাবে বলেই আতঙ্কিত। এই দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতির কথা শুনে দলটি রাতে ঘুমাতে পারছে না।”
তিনি ফ্যাসিবাদ ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফ্যাসিস্ট, খুনি, টাকা পাচারকারীদের বর্জন করতে হবে।” পাশাপাশি, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন, কাঠামোগত সংস্কার এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবি জানান।
গণসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা, পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামি, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী ও সমমনা দলের প্রতিনিধিরা। তাঁরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের তীব্র সমালোচনা করেন এবং একটি নিরপেক্ষ, ইসলামিক মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ডাক দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির আব্দুল আওয়াল বলেন, তাঁদের দল ব্যক্তিগত ক্ষমতায় আগ্রহী নয়, বরং ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতেই তাঁদের সংগ্রাম। তিনি বলেন, ইসলাম ছাড়া দেশে সত্যিকারের ন্যায়বিচার ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমানও বলেন, ইসলামী শক্তির ঐক্যে দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীগুলোর অস্বস্তি বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতারাও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শুরু হয় কোরআন তিলাওয়াত এবং ইসলামি সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। এতে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন, যা একটি বড় রাজনৈতিক উপস্থিতি হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে।