বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদ থেকে ফারুক আহমেদকে অপসারণের বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আজ (বুধবার) পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে ৩৫তম জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা দেখতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ফারুক আহমেদকে কোনো দুর্নীতির অভিযোগে নয়, বরং দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণেই সরানো হয়েছে।”
তিনি জানান, বিসিবির গঠনতন্ত্র ও আইসিসির নিয়ম মেনেই ফারুককে অপসারণ করা হয়েছে। সরকার জোর করে কাউকে সরায়নি, বরং দায়িত্বে পারফরম্যান্স বিবেচনায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলামও নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
পারফরম্যান্স ও বিপিএলের অনিয়ম বড় কারণ
ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতলেও পরে দলের পারফরম্যান্স ক্রমাগত নিম্নগামী হয়েছে। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও বিশেষ করে বিপিএলের সময়কার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ফারুককে সরিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিপিএলে রাজশাহী দল গঠনের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা সরকারের শঙ্কা সত্ত্বেও বাস্তবায়িত হয়। পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের বেতন ও হোটেলের বিল পর্যন্ত সরকারকে মেটাতে হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচে প্রধান উপদেষ্টাকেও আনা যায়নি, যা বিসিবির জন্য বিব্রতকর।”
বোর্ডে সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্ব সংকট
ফারুকের নেতৃত্বে বোর্ডে সঠিক টিমওয়ার্ক গড়ে ওঠেনি বলেও মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন না, যা একটি নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছিল।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “যেমন একজন খেলোয়াড় যদি বারবার খারাপ পারফর্ম করে, তাকে বাদ দেওয়া হয়। ঠিক তেমনই পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও আইসিসির প্রতিক্রিয়া
ফারুক দাবি করেছিলেন, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা এর জবাবে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছি।” তিনি আরও বলেন, ফারুককে অপসারণ নয়, বরং পরিচালক পদ থেকে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির পদটিও শূন্য হয়।
আইসিসির সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। আইসিসিও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।”
একটি বার্তা সবার জন্য
সবশেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “আমি নিজেও যদি পারফর্ম করতে না পারি, আমাকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমি দায়িত্বে থাকতে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ডুবে যেতে দেব না।”