জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তকে “হঠকারী ও জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করা” বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তাঁরা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো:
- ভোটারদের ফোন বাসায় রেখে যেতে হবে
- কোনো সিটিজেন জার্নালিজম বা লাইভ রিপোর্টিং সম্ভব হবে না
- বিপদে পড়লে কাউকে ফোন করে সাহায্য চাওয়া যাবে না
- কেন্দ্র দখল, ভোটচুরি বা অনিয়মের ভিডিও করা যাবে না
হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী) আজ সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন:
“ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে ফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছা থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।”
একই পোস্ট দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে শেয়ার করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী)।
তাঁদের যুক্তি
- সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক অনিয়ম ধরা পড়ে না, কিন্তু ব্যক্তিগত ফোন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও করে ফেলা যায়।
- নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে ফোন না নিয়ে ভোট দিতেও যাবেন না।
- এই সিদ্ধান্ত ভোটচুরি ও কেন্দ্র দখলের সুযোগ তৈরি করছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত
গতকাল রোববার ইসি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে:
- ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেউ মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না।
- ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না।
নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত তথ্য
- তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)
- ভোটের সময়: সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা
- আসন: ২৯৯টি
- ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ+
হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম উভয়েই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।