ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে শাসন করতে চেয়েছিল। ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছেড়ে গেলেও তারা এখনো গুপ্তহত্যার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার পর জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, পতিত ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। তারা কিলার বাহিনী নিয়োগ করে সারা দেশে অরাজকতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ওসমান হাদির ওপর হামলা এই চক্রান্তেরই অংশ। এই শক্তি আরও অনেক প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকে হামলা ও হত্যার লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে সাকি বলেন, এসবের উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক উত্তরণ, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনকে ব্যাহত করা। একদিকে পতিত আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে, অন্যদিকে কিছু মহলের এজেন্ডা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া। অথচ সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য—এটাই এখন বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ার কারণেই গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ ও ২০২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়, তারা আসলে অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাইরে চলে যেতে চাইছে। এটা জনগণ গ্রহণ করবে না।
নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদী চিন্তা মাথাচাড়া দিচ্ছে: সাইফুল হক
একই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, শেখ হাসিনার উগ্র স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটলেও দেশে নতুন ধরনের জবরদস্তি ও ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এতে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা সাম্যভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অভ্যুত্থানের পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা সেই চেতনা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন ধর্ম বা মতাদর্শের নামে নতুন জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা হচ্ছে নানা মতপার্থক্যের মধ্যেও ঐক্য ধরে রাখা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এগিয়ে নেওয়া—যোগ করেন সাইফুল হক।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এসব মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষার প্রেক্ষাপটে।