ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি আঘাত হানায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন, আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এই হামলায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার রাতভর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এক পর্যায়ে তেল আবিব, রামাত গান এবং রিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার মুখে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সতর্কবার্তা দিয়ে সাইরেন বাজালে লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।
তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনের বাসিন্দা টালি হোরেশ জানান, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো ভবন কেঁপে উঠে। ধোঁয়ায় ভরে যায় আমাদের লিভিং রুম।’ নিরাপদ কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
রামাত গানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬৩ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন নারী পরে মারা যান। এছাড়া রিশনের আবাসিক এলাকায় হামলায় প্রাণ হারান ইসরায়েল আলোনি (৭৩) ও এক নারী, আহত হন অন্তত ২০ জন। একটি ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিসের ক্যাপ্টেন ইদান চেন বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথম এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে তুলে দিই। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের বের করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, অনেকেই আটকা পড়েছিল। একদিকে আগুন, অন্যদিকে ধসে পড়া কাঠামো—এই অবস্থায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।’
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা অভি গাতেনিও বলেন, ‘সাইরেন বাজতেই সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিই। পাঁচ মিনিট পরই বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ পাই।’ তিনি জানান, কাছেই এক প্রবীণ দম্পতিকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, তবে কিছু হামলা সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সাবেক প্রধান কর্নেল (অব.) মাইকেল ডেভিড এই হামলাকে “অভূতপূর্ব মাত্রার” বলে অভিহিত করেছেন।
এ হামলার জবাবে ইরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে, পরিস্থিতি ঘনীভূত হচ্ছে বলেই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।