বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর মা খালেদা জিয়া সারা জীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁর সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার গভীরভাবে অনুভব করছেন তিনি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে তিনি সেই পথযাত্রা এগিয়ে নেবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এ কথা লেখেন তারেক রহমান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গতকাল বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে—মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে জনসমুদ্র। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয় তাঁকে।
তারেক রহমানের পোস্টে বলা হয়:
“গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা…কে আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।
অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে…তা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান…আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।
আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তাঁর সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাঁকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।
আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন…সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।”