ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শীর্ষ পদাধিকারী নিয়োগ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে চলছে গভীর আলোচনা। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো অবশিষ্ট থাকলেও নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। স্পিকার পদের জন্য ওসমান ফারুক, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও জয়নুল আবেদীনের নাম সামনে এসেছে। সংসদ উপনেতার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত, যদিও সংবিধানে এর বিধান না থাকলেও অতীতে এমন নজির রয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকারের ১৫ দিন পার হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা পর্যালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব পদে অভিজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চায় দলটি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর নাম বিবেচনায় রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও আলোচনায় ছিল। খন্দকার মোশাররফের রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও মন্ত্রিত্বের সফলতার কারণে তাঁর নাম সবচেয়ে এগিয়ে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন তিন-চারজন বিএনপিতে আছেন। কিন্তু এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুসারে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো শেষ হয়নি।’
স্পিকার পদে ওসমান ফারুক, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও জয়নুল আবেদীনের নাম আলোচিত। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছয়বারের সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বের কারণে স্পিকার পদে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। ওসমান ফারুকেরও সংসদীয় কার্যপ্রণালির অভিজ্ঞতা রয়েছে। জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের সংসদ সদস্য হলেও আইন পেশায় দীর্ঘকালীন সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে আলোচনায় আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে না। ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন বসছে, তার আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান রেখে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়া হবে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামীকে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।
সংবিধান অনুসারে, সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলো উত্থাপনের ক্রমানুসারে ভোটগ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন, এবং বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এ পদেও দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় এসব পদে কারা আসছেন—তা এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচ্য বিষয়।