রাজবাড়ীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। কয়েক বছর আগেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দলটি কার্যত আড়ালে চলে গেছে। বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, অনেকে রয়েছেন কারাগারে।
এর বিপরীতে, দীর্ঘদিন নীরব থাকা জামায়াত এখন বেশ সক্রিয়। পাশাপাশি বিএনপির কর্মীরাও রাজপথে উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন।
দ্বন্দ্বেও সক্রিয় বিএনপি
রাজবাড়ী-১ ও রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল স্পষ্ট হলেও, দলটি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। রাজবাড়ী জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব আসলাম মিয়া ও হারুন অর রশিদের অনুসারী, অন্যদিকে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও নাসিরুল হক সাবু আলাদা গ্রুপ গঠন করেছেন।
সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। তবুও বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রচারণায় ব্যস্ত জামায়াত
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। রাজবাড়ী-১ আসনে মো. নুরুল ইসলাম এবং রাজবাড়ী-২ আসনে হারুন অর রশিদ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়েও সক্রিয় দলটি।
আত্মগোপনে আওয়ামী লীগ
আন্দোলনের পর রাজবাড়ী আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ শীর্ষ নেতাদের বাসভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে জেলা সভাপতি জিল্লুল হাকিম, সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ অনেকেই আত্মগোপনে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী রয়েছেন কারাগারে।
রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ থানায় শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন মামলায় আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা
জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিছুটা সক্রিয় এবং ইসলামী জোট গঠনের সম্ভাবনাও রেখেছে। সিপিবিও মাঝে মাঝে বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে দাঁড়াচ্ছে।
সদ্য গঠিত এনসিপি এখনও রাজবাড়ীতে দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় নয়। সদস্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছে দলটি।