বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আটক তিন বিক্ষোভকারী   ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদকে নিয়ে চাঞ্চল্য   বেনজীর গ্রেপ্তার: সরকারের চেয়ে ইন্টারপোলকে কৃতিত্ব দিল জামায়াত   শিক্ষার মান নিয়ে সংসদে বিতর্ক, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা প্রতিমন্ত্রীর   সরকারি চাকরিতে নতুন সুযোগ, নিয়োগ পাবে ৫ লাখ মানুষ   এস আলমের গাড়ি বিতর্কে সংসদে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ও হত্যা বন্ধে জোর দাবি ভাসানী জনশক্তি পার্টির   অপরাধের পরিসংখ্যানেই ফুটে উঠছে নিরাপত্তাহীনতা: রুমিন ফারহানা   নতুন অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু সংসদে   জ্বালানি নিরাপত্তায় তিন মাসের মজুত সক্ষমতা চায় বিশেষ কমিটি  

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: সেপ্টেম্বর কি আনবে নতুন সূচনা? 

জুলাই 6, 2025
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: সেপ্টেম্বর কি আনবে নতুন সূচনা? 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিগগিরই দেশে ফেরার আলোচনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরদার হয়েছে। দলীয় নেতারা তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও জানিয়েছেন, প্রস্তুতি চলছে। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগস্টের শেষ নাগাদ তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। 

তারেক রহমানের নিরাপত্তা, বাসভবন রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে প্রস্তুতির কথা গণমাধ্যমে এলেও বাস্তবে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, গণ-অভ্যর্থনার মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত বিএনপি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও নির্বাচনের সময়সূচি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। 

জুলাই-আগস্টে তাঁর ফেরার আলোচনা ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। বিশেষ করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপির ৩৬ দিনের কর্মসূচির শেষদিকে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানেই তারেক রহমানের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। বর্ষাকালের কারণে এই সময়ে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন অনেকে। 

বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বা পরে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা বেশি। এমন প্রত্যাবর্তন নির্বাচনী উত্তাপ তৈরি করতে সহায়ক হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে লন্ডনে বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন নির্ধারিত থাকলে সেটি ভেস্তে গেলে তিনি ফিরতে পারেন। 

তারেক রহমানের ফেরাকে ঘিরে গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে সংস্কারকাজ চলছে, যেখানে তিনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি লন্ডনে রয়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রবাসে রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁর দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে। 

বিএনপির নেতারা বারবার বলেছেন, তারেক রহমান “শিগগিরই” দেশে ফিরবেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্বাচনী শোডাউনের অংশ হতে পারে। 

দলীয় স্লোগান “তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে” এখনো কর্মীদের মুখে মুখে। কেউ কেউ বলছেন, এই প্রত্যাবর্তন হতে পারে রাজকীয়ভাবে নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে অথবা সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে বিশেষ প্রয়োজনে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সেই নির্ণায়ক মুহূর্তের দিকেই তাকিয়ে আছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন