শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা  ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ, ভরসা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে আজ বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক   প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, জানালেন মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় আটকে গেল এনসিপির গাড়িবহর  আগস্টেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে বুধবার এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ, থাকবেন নাহিদ ইসলাম  রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আগের বা পরের অভিযোগে মামলা করা যাবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?   বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলা অজ্ঞতার পরিচয়: মির্জা ফখরুল 

বঙ্গভবন ছাড়লেন তাঁরা, নীরব বিদায়ে নতুন জল্পনা  

জুলাই 26, 2026
বঙ্গভবন ছাড়লেন তাঁরা, নীরব বিদায়ে নতুন জল্পনা  

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গভবন ছাড়ছেন। তাঁর বিদায় এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের বিদায়ের ইতিহাস আবারও আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতার পর দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রপতিকেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক অভ্যুত্থান, পদত্যাগ কিংবা মৃত্যুর কারণে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। 

বাংলাদেশের সংবিধান বা আইনে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নেই। তবে ২০২৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হয়, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধনা হিসেবে বিবেচিত হয়। বঙ্গভবনে তাঁকে গার্ড অব অনার, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং পুষ্পশোভিত খোলা জিপে বিদায় জানানো হয়েছিল। 

এর বিপরীতে, দেশের অনেক সাবেক রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব শেষে নীরবে বিদায় নিয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে প্রতিপক্ষ সরকারের আমলে দায়িত্ব শেষ হওয়ায় তাঁদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় আয়োজন হয়নি। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর প্রায় প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদল হওয়ায় রাষ্ট্রপতিদের বিদায় ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতাহীন। 

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশ তিনজন রাষ্ট্রপতি পেয়েছে। জিল্লুর রহমান দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মারা যান। এরপর আবদুল হামিদ টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর দায়িত্বকালেই ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ইতিহাসে রয়েছে নাটকীয় নানা অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিহত হন। খন্দকার মোশতাক আহমদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, বিচারপতি আবদুস সাত্তার এবং এইচ এম এরশাদের সময়ও রাজনৈতিক সংকট ও ক্ষমতার পালাবদল রাষ্ট্রপতির পদকে কেন্দ্র করে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকটাই সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক হয়ে ওঠে। এরপর আবদুর রহমান বিশ্বাস, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, আবদুল হামিদ এবং মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন, কেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আগেই বিদায় নিয়েছেন। 

মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকছে। তাঁর বিদায় রাষ্ট্রীয় জাঁকজমক ছাড়া হলেও এটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন