পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ দুর্নীতির দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার বাদী হিসেবে দুদকের সহকারী পরিচালক সালাউদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই তথ্য প্রথম আলোর সঙ্গে ভাগ করে দিয়েছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, এই তিন মামলায় মোট ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুদকের সহকারী পরিচালক সালাউদ্দিনই সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন।
পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ছয়টি মামলায় গত ৩১ জুলাই ঢাকার দুই বিশেষ জজ আদালত শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যে তিনটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১১ আগস্ট বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন দিন নির্ধারণ করেন, এবং বাকি তিনটি মামলার জন্য ১৩ আগস্ট বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। উল্লেখ্য, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অভিযোগ পড়ে শোনানো যায়নি।
দুদকের মামলায় শেখ হাসিনার পরিবারের অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন: তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। এছাড়া মোট ১৬ জন বাইরের আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্তের তৎকালীন সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া সহ আরও অনেকে।
দুদকের পিপি খান মো. মইনুল হোসেন জানান, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকায় যাদের কোনও জমি-বাড়ি বা গাড়ি নেই, তারা সংস্থার প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজউকের কাছে মিথ্যা হলফনামা দেওয়া হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের কোনও সম্পত্তি নেই। তবে দুদকের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, পরিবারটির প্রত্যেক সদস্যের নামে রয়েছে বাড়ি, জমি ও গাড়ি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা ৬০ কাঠার একটি প্লট নিয়েছেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, সম্প্রতি প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির এই ছয়টি মামলায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে মামলাগুলো বিচার কার্যক্রমের জন্য দুটি বিচারিক আদালতে স্থানান্তর করা হয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয় এবং ১০ মার্চ এই ছয়টি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগে উল্লেখ আছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।