নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের প্রয়াত নেতা ফজলুল রহমানের (পটল) দুই সন্তান—ফারজানা শারমিন (পুতুল) ও ইয়াছির আরশাদ (রাজন)—এর মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। ৩ নভেম্বর ফারজানা শারমিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে এই দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়েছে, যা দলীয় ঐক্যের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ফারজানা শারমিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ইয়াছির আরশাদের সমর্থকরা আজ শনিবার বিকেলে লালপুরের শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সমাবেশে ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম বলেন, ‘ফজলুর রহমান লালপুর-বাগাতিপাড়ার প্রাণপুরুষ ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য ছেলে চিকিৎসক ইয়াছির আরশাদ বাবার জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাই আমরা তাঁকেই এমপি হিসেবে দেখতে চাই। না হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
দুয়ারিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ইয়াছির আরশাদের জনপ্রিয়তার তুলনা হয় না। তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে আমরা এমপি হিসেবে ভাবতেই পারি না। আমরা অবিলম্বে মনোনয়ন পরিবর্তন চাই।’ সমাবেশে ইয়াছির আরশাদ উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনেককে সেখানে দেখা গেছে।
মুঠোফোনে প্রথম আলোকে ইয়াছির আরশাদ বলেন, ‘জনমত উপেক্ষা করে কোনো মত চাপিয়ে দেওয়া হলে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমি আশা করব, দল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। তৃণমূলের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেবে। আমি লালপুরে জন্মেছি, লালপুরেই আমার সংসার। লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গে মিলে-মিশে থাকতে চাই।’
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের ভাই–বোনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। একটি কুচক্রী মহল আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। সাত দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জনপ্রিয়তা যাচাই করেই দল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে বিজয়ী করবেন।’ তিনি আজ শনিবার বিকেলে বাগাতিপাড়া স্কুল মাঠে জনসভা করেছেন, যেখানে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ নভেম্বর ফারজানা শারমিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে ইয়াছির আরশাদের সমর্থক ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক ও মনোনয়নপ্রত্যাশী তাইফুল ইসলামের (টিপু) অনুসারীরা ফারজানার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরছে, যা দলীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।