ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর তাঁকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ও খ্যাতনামা ফুটবলার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং ১৯৭৬ সালে মেজর পদে অবসর নেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাব লাভ করেন। যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, কামালপুর বিওপি আক্রমণসহ একাধিক সম্মুখযুদ্ধে তিনি অংশ নেন এবং আহত হন। মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সিলেট শহর দখলে তাঁর নেতৃত্বাধীন কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ সরকার গঠনের পর তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হন।
খেলাধুলায়ও তিনি ছিলেন অসাধারণ। ১৯৬৭-৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ও ১৯৭০ সালে আরসিডি প্রতিযোগিতায় অধিনায়ক ছিলেন। ঢাকা মোহামেদানের হয়ে ১২ বছর খেলেছেন এবং ১৯৭৬ সালে অধিনায়কত্ব করেন। ২০০৫ সালে ফিফা তাঁকে ‘বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের সেরা ফুটবলার’ হিসেবে সেন্টেনারি অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা দেয়।
পারিবারিক জীবনে তাঁর স্ত্রী দিলারা হাফিজ ছিলেন শিক্ষাবিদ ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক। তাঁদের দুই ছেলে (শাহরুখ হাফিজ, তাহারাত হাফিজ) ও এক মেয়ে (শামামা শাহরীন হাফিজ) রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্পিকার নির্বাচনকে বিএনপি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।