ভারতের পানি নীতিকে “পানি আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণকে চাপে ফেলতেই ভারত দীর্ঘদিন ধরে নদীর পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ফারাক্কা বাঁধ তার অন্যতম বড় উদাহরণ।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ফয়জুল হাকিম বলেন, ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়তে থাকে। তাঁর দাবি, এর ফলে ওই অঞ্চলে ধীরে ধীরে মরুকরণ দেখা দিয়েছে, কৃষি উৎপাদন কমেছে এবং জীবিকা হারিয়ে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা থেকেই মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ডাক দিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে পানি, পরিবেশ ও কৃষকের অধিকারকে রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল।
ফয়জুল হাকিমের ভাষ্য, দেশের পানিসম্পদকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে হলে শ্রমিক, কৃষক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারভিত্তিক রাজনৈতিক সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন মুহাম্মদ কাইয়ুম, মুঈনুদ্দীন আহমেদ, মিতু সরকার, মনোয়ারুল ইসলাম ও আবুল কালামসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।