বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদকে মানব না। আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এইচ জে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের–এর সমর্থনে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরে যাঁরা মজলুম ছিলেন, তাঁদের পক্ষেই বাংলাদেশ থাকবে। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না—আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১১ দলের যেখানে যে প্রতীক, সেই প্রতীকের পক্ষে আমাদের দাঁড়াতে হবে।’
তিনি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে যাঁরা এসব করেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এমন সমাজ গড়তে চাই যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। হালাল রুজি দিয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকবে। আপনারা এই অপকর্ম ছেড়ে দেন।’
নাহিদ ইসলাম: পার্শ্ববর্তী দেশ নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারা প্রকাশ্যে ১১-দলীয় জোটের বিপক্ষে কথা বলা একটি দলের পক্ষ নিয়েছে। যদি তারা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তাহলে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’
মামুনুল হক: আর কোনো রাজপরিবারের হাতে দেশ তুলে দেব না বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ৭২ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে শোষণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এখন আর বাংলাদেশের মানুষ দুটি রাজপরিবারের হাতে ভাগ্য তুলে দেবে না।’ কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি মুনাফেকদের সমালোচনা করেন যারা গণভোটে একবার ‘না’ বলে আবার ‘হ্যাঁ’ বলে।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের: আমি সবার প্রতিনিধি সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াত প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, তিনি আগেও নির্বাচিত হয়ে রক্তপাত রোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমপি কোনো দলের প্রতিনিধি নয়—এমপি জনগণের প্রতিনিধি। চৌদ্দগ্রামের সবাই আমার ভাই। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে ভোট চাই।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাত, ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতারা প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন।