ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। শনিবার পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এসব রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এই নিন্দা প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি উত্থাপন করেছে।
ইরানে চালিত এই অভিযানের প্রতি নিন্দা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, অসত্য অভিযোগ ও অসাধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই আক্রমণ আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি লজ্জাজনক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তিনি অবিলম্বে এই আক্রমণ বন্ধ করে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউনুস আহমাদ আরও বলেন, ইরানে অর্ধশতাধিক শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য জাতিসংঘের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকারকে এই অযৌক্তিক আক্রমণের নিন্দা প্রকাশ এবং যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরানে এই আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সংগঠনটি এই উদ্বেগ ব্যক্ত করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালিত এই আক্রমণ শান্তিকামী সকল মানুষের অন্তরে গভীর আঘাত হেনেছে। এই আক্রমণের মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসবাদী স্বরূপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন করেছে।
ইরানে চালিত এই আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।
এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগী ইসরায়েলি জায়নবাদ ইরানে যে সামরিক আক্রমণ চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন, মানবতা ও ন্যায়বিচারের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই আগ্রাসন বিশ্বশান্তির জন্য এক ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ।
যুদ্ধবিরতির দাবি উত্থাপন করে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, এই আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ব্যবহার করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রও এই অন্যায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিশ্বমানবতার প্রতি শত্রুতামূলক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পক্ষে ভূমিকা পালন করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং বিপজ্জনক।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই আক্রমণ শুধু ইরানের জনগণের প্রতি নয়, বরং বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ এবং ইহুদিবাদ-বিরোধী স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রতি এক নির্লজ্জ আঘাত। এসবের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ঐক্য ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন সামনে উপস্থিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই আক্রমণের প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রত্যুত্তরে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।