মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের পরদিন বিক্ষোভে দুই উপদেষ্টার অবরুদ্ধ হওয়া এবং সচিবালয়ে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু) বলেছেন, এসব ঘটনা উপদেষ্টাদের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি সরকারের দুর্বলতার চিত্র হিসেবে এসব ঘটনাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, এই দুর্বল সরকারের পক্ষে জরুরি সংস্কার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মজিবুর রহমান বলেন, “সরকার এখন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা এবং জবাবদিহি দুটোই কমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোর ভেতর বিভাজনের সুযোগ নিয়েই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ বিভাজনের দায় মূলত সরকারের ব্যর্থতা।”
প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি একটি প্রস্তাব দিয়ে মজিবুর রহমান বলেন, “আপনি যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে না পারেন এবং একটি ভালো নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব না মনে করেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা, যারা একটি নতুন বাংলাদেশের পক্ষে আছি, আপনার নেতৃত্বেই একটি নির্বাচনী অ্যালায়েন্স গঠনে আগ্রহী।”
এদিকে গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক মঙ্গলবার রাতে চারটি নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার একান্ত বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই দলগুলোকে কোন প্রক্রিয়ায় বড় বা গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচনা করা হলো? এদের মধ্যে একটি দলের এখনো নিবন্ধনই হয়নি।”
তিনি সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনে বলেন, “সরকার যদি নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে সরে যায়, তাহলে জনসমর্থন হারাবে, আর এর ফলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সম্ভাবনাও সংকটে পড়বে।”