ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তিন দলের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামীকাল ও পরশু শাহবাগ অথবা শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি তাতে অংশ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গতকাল ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় নেতা ওসমান হাদি। তিনি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং অবস্থা সংকটাপন্ন। পুলিশ সন্দেহভাজন একজনের ছবি প্রকাশ করে তাকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য নির্বাচন বানচাল করা। হামলাটি ‘খুবই সিম্বলিক’ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে অপরাধীকরণের ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করার চেষ্টা চলছে। হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দিচ্ছে।
জামায়াতের নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বীকার করেন যে, সাম্প্রতিক দোষারোপের প্রবণতা বিরোধীদের সুযোগ দিয়েছে। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং পরস্পরের দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সতর্ক করে বলেন, দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা জাতির স্বার্থে ও জুলাইয়ের চেতনার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিন দলই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল না ধরতে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ঐক্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।