বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। দলটির মতে, বিদেশের মাটিতে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয়।
শনিবার সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ মত জানানো হয়। দলটির আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংলাপ চালানো প্রধান উপদেষ্টার কাজ হলেও, একটি নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে বিদেশে এককভাবে বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামায়াত জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বিভিন্ন দলের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক করলেও, লন্ডনের বৈঠকের ধরন এবং পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ। ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি যে নির্বাচনী রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন, তার পরপরই এমন একপাক্ষিক যোগাযোগ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনমনে শঙ্কা তৈরি করছে বলে দলটি মনে করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এমন পদক্ষেপ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সব দলের সঙ্গে সমান আচরণ না করলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি সম্ভব নয়। জামায়াত আশা করে, প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত দেশে ফিরে এসে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন এবং বিচার ও কাঠামোগত সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
দলটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা যেন জাতির সামনে স্বচ্ছ হয় এবং কোনো পক্ষপাতিত্বের অবকাশ না থাকে।