বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে উত্তরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সবার আগে সমাধান করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এর আগে তিনি গাজীপুর ও ময়মনসিংহে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, উত্তরার মানুষ প্রতি মাসে বিল দিলেও গ্যাস পান না—এ অভিযোগ বহুদিনের। তিনি আরও বলেন, নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধানে অতীতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ধানের শীষ জয়ী হলে নতুন কলকারখানা গড়ে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে এবং মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের জন্য উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সবার আগে ইনশা আল্লাহ আমরা করব।’
পানিসংকট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়া ও ওপারে বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর প্রবাহ কমে গেছে। এ জন্য বিএনপি ‘খাল খনন কর্মসূচি’ নিয়েছে, যার লক্ষ্য সারা দেশের পানির সমস্যা সমাধান।
তিনি আরও বলেন, লাখ লাখ শিক্ষিত ও অশিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান নেই। কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ‘১৬-১৭ বছর আমরা শুধু গল্প শুনেছি, সমাধান পাইনি।’
সমাবেশের শুরুতে তিনি গুম ও খুনে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই মানুষগুলো কেন স্বজনহারা হয়েছেন, তার সাক্ষী এখানে উপস্থিত সবাই।’ তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্যই তাঁরা পরিবার হারিয়েছেন।
তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে উত্তরার মানুষের বড় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তরার অবদান ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রক্ত, ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষা ও ভোটাধিকারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি।
তারেক রহমান নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর একে-অপরের বিরুদ্ধে মন্তব্য না করে ঠান্ডা মাথায় মানুষের সমস্যার সমাধান চিন্তা করার আহ্বান জানান।