বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
নতুন জালেম হিসেবে গুপ্ত সংগঠনের আবির্ভাব: তারেক রহমান  জামায়াত আমিরের পোস্ট নিয়ে বিতর্ক, হ্যাকের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির  সিলেটে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ৯ নেতাকে বহিষ্কার বিএনপির  তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বলে মনে করেন ৪৭ শতাংশ মানুষ  আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না: জামায়াতের আমির  জলাবদ্ধতা দূর করাই প্রথম অগ্রাধিকার হবে: উত্তরায় তারেক রহমান  জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির শফিকুর  মানুষের আস্থাই আসল শক্তি, ভাড়া করা লোক দিয়ে রাজনীতি নয়: তাসনিম জারা  ভোট পর্যবেক্ষণে ৫৫ হাজার দেশি ও ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক  কূটনীতিকদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে ইসি 

“জুলাই সনদে আসছে বড় ধরনের সংস্কার প্রস্তাব” 

আগস্ট 17, 2025
"জুলাই সনদে আসছে বড় ধরনের সংস্কার প্রস্তাব" 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সম্প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া প্রকাশ করেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। এই খসড়া মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে গৃহীত ৮৪টি সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। 

প্রথম পর্বে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তার অনেকগুলোই দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। যেমন— স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন, রাজনৈতিক দলকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস, আইনজীবীদের আচরণবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধের কৌশলপত্র এবং গণহত্যা ও ভোট জালিয়াতিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন। 

অন্যদিকে দ্বিতীয় পর্বে ভিন্নমত ছাড়া ১১টি বড় সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদান সম্পর্কিত বিধান, বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নির্ধারণ, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কমিশন গঠন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ। 

তবে এতসব ঐকমত্যের মাঝেও মতবিরোধের জায়গাগুলো পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়ে জাসদ, সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি বাম দল আপত্তি জানিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনপদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি, এনডিএম ও সমমনা জোটের আপত্তি এসেছে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং উচ্চকক্ষ-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে। 

এছাড়া নারী আসনের বিধান, ন্যায়পাল ও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ, এমনকি ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে যোগদানের মতো বিষয়েও দলগুলোর ভিন্নমত রয়ে গেছে। 

সব মিলিয়ে জুলাই সনদের খসড়া আমাদের সামনে একদিকে রাজনৈতিক সংস্কারের এক সম্ভাবনাময় রূপরেখা হাজির করেছে, অন্যদিকে দলগুলোর আদর্শগত অবস্থান ও মতপার্থক্যও স্পষ্ট করে দিয়েছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন