এবারের ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা মূলত শান্তিপূর্ণ, দলমুক্ত ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রত্যাশা করছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা এখন চাইছেন, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে দখলদারিত্ব, জোরপূর্বক মিছিল বা গুপ্ত রাজনীতির অভ্যাস যেন না থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, প্রথাগত ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন দলীয় আধিপত্য, সহিংসতা ও দখলদারিত্বে সীমাবদ্ধ ছিল, যা পরিবর্তনের প্রয়োজন। পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাসরুর বলেন, “ছাত্রনেতারা শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুই দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করে। ডাকসু হলে সেই জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
শিক্ষার্থীরা ডাকসুর মাধ্যমে চাইছেন:
- আবাসনসংকট, রিডিংরুমের অভাব ও শিক্ষার্থী নিপীড়নের সমাধান
- গবেষণা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন
- শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা
নির্বাচনের চারটি মূল ফ্যাক্টর শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ:
- ভোটারদের মধ্যে ৪৭.৫২% ছাত্রী।
- জগন্নাথ হলের ভোটার, যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রার্থীদের ভূমিকা।
- প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি।
প্রার্থীর সংখ্যা ও প্যানেল:
- ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
- ১৮টি হল সংসদের ১৩টি পদে ১,২২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
- প্রধান প্যানেলগুলো:
- ছাত্রশিবির: ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
- ছাত্র অধিকার পরিষদ: ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ’
- গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ: ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’
- বামপন্থী ছাত্রসংগঠন: ‘ফোর্স ফর রেজিস্ট্যান্স’
ভোট কেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যা:
- এবার ভোট কেন্দ্র হবে আবাসিক হলের বাইরে।
- মোট ভোটার ৩৯,৭৭৫ জন, যার মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০,৮৭৩ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮,৯০২।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি দাবি করেছেন, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সব সংগঠনের জন্য সমান সুযোগ থাকে। ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, কিছু হলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, এবারের ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে।