অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিতে পারেন—এমন আলোচনা চলছে। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে কথাবার্তা হচ্ছে। দুই পক্ষ থেকেই আগ্রহ রয়েছে। চূড়ান্ত হলে তাঁদের জন্য দলে নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।
মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর–১ (রামগঞ্জ) এবং আসিফ মাহমুদ ঢাকা–১০ (ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ) আসন থেকে নির্বাচন করবেন—এটি অনেকটাই নিশ্চিত। কিছুদিন আগে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেন—এমন গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু ওই দুটি আসনে বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
ঢাকা–১০-এ বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর আসিফ গণ অধিকার পরিষদে যোগ দেওয়া নিয়ে নুরুল হক নুরের দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি একসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন এবং গণ অধিকারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই এনসিপিতে যোগদানের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে এনসিপির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। দলের নেতৃবৃন্দ তাঁদের এনসিপিতেই চাইছেন। বিষয়টি কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হবে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা হিসেবে মাহফুজ ও আসিফ অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হয়েছিলেন। আসিফ ৮ আগস্ট থেকে স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মাহফুজ প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং পরে তথ্য উপদেষ্টা হন।
১০ ডিসেম্বর তাঁরা পদত্যাগ করেন, যা তফসিল ঘোষণার সঙ্গে কার্যকর হয়। পদত্যাগের পরদিন (১২ ডিসেম্বর) আসিফ ঢাকা–১০-এ বিজয় শোভাযাত্রা করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গতকাল রাতে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, ‘আপাতত ঢাকা-১০-এ স্বতন্ত্র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাজনৈতিক দলে যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’
মাহফুজ ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দেন, যেখানে এনসিপির নেতারাও ছিলেন।
এনসিপি ইতিমধ্যে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। লক্ষ্মীপুর–১ ও ঢাকা–১০ খালি রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের এনসিপিতে যোগদানের সম্ভাবনা দলটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।