নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ চাওয়া ছিল অপ্রয়োজনীয় এবং অনুচিত। তিনি বলেন, ২০ কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া সাধারণ বিষয় নয়, তাই এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার ছিল।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জনদুর্ভোগ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন’ শীর্ষক এক গণশক্তি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মান্না এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ইউনূসকে রাজনীতি বোঝার আহ্বান জানিয়ে মান্না বলেন, “রাজাকে রাজনীতি জানতে হবে। তিনি মেধাবী ব্যক্তি, চাইলে শিখে নিতে পারবেন। কিন্তু করিডোর দেওয়ার মতো মন্তব্য শিশুসুলভ আচরণ।”
মান্না আরও বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং জনগণের দল ক্ষমতায় এলে তা আরও গতি পাবে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু ক্ষমতা বদলের জন্য নয়, সুষ্ঠু ভোট ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতেই আন্দোলন করি।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন এমপি যেন এলাকাভিত্তিক কর্তৃত্বজ্ঞান না দেখান এবং স্থানীয় নির্বাচন যেন ত্রুটিমুক্ত হয়—এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মান্না বলেন, বাসস্ট্যান্ড ও নদীবন্দর দখলমুক্ত করাসহ জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “সরকার বড় মিছিলে ভয় পায়, এমনকি আদালতের রায়ও প্রভাবিত হয়।”
অধ্যাপক ইউনূসের মেয়াদ প্রশ্নে মান্না বলেন, “তাঁকে পাঁচ বছর রাখতে হলে নির্বাচন ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। জনগণের ভোট ছাড়া পদ ধরে রাখা অনৈতিক।”
সভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনই যেন একমাত্র সমাধান এমন ভাবা উচিত নয়। প্রধান উপদেষ্টার একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
গণমুক্তি জোটের মহাসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে এবং ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক মঞ্চ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।