সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদাপাথর লুটপাটে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ৪২ জন রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও রয়েছে।
দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম ১৩ আগস্ট অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলনের সব তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাঠানো প্রতিবেদনে প্রকাশ, স্থানীয় প্রশাসন ও অসাধু ব্যক্তিরা মিলে কয়েকশ কোটি টাকার পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে, বিশেষ করে শেষ তিন মাসে, উত্তোলন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসক (ডিসি), ইউএনও, সহকারী কমিশনার, তহসিলদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা প্রতি ট্রাক থেকে কমিশন নিতেন। পুলিশও প্রতিটি ট্রাক এবং নৌকা থেকে কমিশন পেত। এসপি, সার্কেল এএসপি, ওসি ও অন্যান্য পুলিশ সদস্য এই চাঁদা ভাগাভাগিতে অংশ নিতেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিনসহ ৩১ জন সরাসরি লুটপাটে জড়িত ছিলেন বলে দুদক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া আরও ১১ জন ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।
বিএমডি এই লুটপাট প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, আর বিজিবি কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। দুদক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ কার্যক্রমে পুলিশ, প্রশাসন, বিজিবি এবং রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে কোম্পানীগঞ্জে পাথর লুট অব্যাহত ছিল।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মহানগর বিএনপি নেতা রেজাউল কয়েস লোদী এবং জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, কোনোভাবেই এই অপকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নই। প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করতে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।”
এই ঘটনায় কমিশনের তদন্ত ও প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বহীনতা পাথর লুটের মূল কারণ।