রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা  ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ, ভরসা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে আজ বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক   প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, জানালেন মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় আটকে গেল এনসিপির গাড়িবহর  আগস্টেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে বুধবার এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ, থাকবেন নাহিদ ইসলাম  রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আগের বা পরের অভিযোগে মামলা করা যাবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?   বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলা অজ্ঞতার পরিচয়: মির্জা ফখরুল 

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড 

জুলাই 8, 2026
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড 

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম রোধে বিদ্যমান আইন আরও আধুনিক ও কঠোর করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। 

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন পায়। 

ডিজিটাল কারসাজির জন্য ৫ বছরের জেল 

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ (ডিজিটাল কারসাজি)-এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করার মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া যাবে। 

অনলাইনে প্রশ্নফাঁসেও একই শাস্তি 

সংশোধিত আইনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। নতুন আইনে এই শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। 

নিষিদ্ধ ডিভাইস ও অসদুপায়ে সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা 

বিলে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন, প্রবেশের চেষ্টা বা পরীক্ষা পরিচালনার বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। 

এ ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায়ে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা কিংবা এমন চুক্তির চেষ্টা করলেও একই শাস্তির আওতায় পড়তে হবে। 

অন্যায্য মূল্যায়নেও শাস্তির বিধান 

নতুন আইনে পরীক্ষকদের জন্যও জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (Over Assessment) বা অবমূল্যায়ন (Under Assessment) করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন। 

তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের মাধ্যমে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। 

শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক বিধান 

সংশোধিত বিলে শিশুদের বিষয়ে বিশেষ বিধান সংযোজন করা হয়েছে। কোনো শিশু এ আইনের আওতায় অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে শিশু আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

নতুন এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন