যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই—এমন কঠোর মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শক্তি আজ ভোল পাল্টে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দাবি করছে, কিন্তু জনগণ এটা বিশ্বাস করবে না।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে আমার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকতে পারে আমি অন্তত মনে করি না।’ তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ১৯৪৭-এ পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং আজ ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে—যেমনটি ১৯৭১ সালেও করতে চেয়েছিল।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দালালরা পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ষড়যন্ত্র সফল হয়নি; দুদিন পরই বিজয় অর্জিত হয়। ‘ষড়যন্ত্র করে কখনো সফলতা আসে না, সত্যের পথে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আসে।’
আসন্ন নির্বাচনকে দুটি শক্তির মধ্যে লড়াই বলে বর্ণনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও উদার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, অন্যদিকে পশ্চাৎপদ শক্তি যারা ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্বপ্নের আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হলেও নতুন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ; জোর করে আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না। পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনঐক্যের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বক্তব্য দেন আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করেছে।